নকিবউদ্দিন গাজি
নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। লকডাউনের জেরে ক্ষতির মুখে পান চাষিরা। প্রত্যেক চাষির সপ্তাহে যা ক্ষতি হচ্ছে তা যোগ করলে সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা হয়ে যাবে। ফলে মাথায় হাত চাষিদের।
দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর-সহ মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের শেরপুর এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বহু মানুষ পান চাষের উপরে নির্ভরশীল। বিশেষ করে সাগর ও পাথরপ্রতিমা ব্লক এলাকায় বেশির ভাগ মানুষই পান চাষের উপরে নির্ভরশীল। এই সব জায়গা থেকে মিঠাপাতার পান রফতানি হয় দিল্লি-বম্বে তো বটেই বাংলাদেশেও। যান চলাচল বন্ধ থাকায় পান রফতানিও বন্ধ তাই বিরাট ক্ষতির মুখে পানচাষিরা।
এই এলাকার পান চাষিরা জানান যে করোনা ভাইরাসের জন্য দেশ জুড়ে লকডাউনের জেরে বন্ধ গাড়ি চলাচল ও পানের পাইকারি বাজার। সেজন্য পান তুলে বাজার বিক্রি করা যাচ্ছে না। এই জেলায় মিঠাপাতা ও বাংলাপাতার চাষ হয়। সেই পান পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা তো বটেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও রফতানি করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে পানের পাইকারি ব্যাবসয়ীরা আসেন কাকদ্বীপ ও সাগরের পান পাইকারি বাজারে। গাড়ি বন্ধের জন্য তাঁরা আসতে পারছেন না। সেজন্যই পানের বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এখন পান পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পান চাষিরা জানান যে এই পান চাষের উপর নির্ভর করেই তাঁদের সংসার চলে, এটাই তাঁদের প্রধান জীবিকা। দীর্ঘদিন ধরে এই রকম লকডাউন চললে যেমন তাঁদের পান পচে যাবে। তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এর পাশাপাশি তাঁরা দুবেলা দুমুঠো খেতে পাবেন কিনা সন্দেহ আছে।
পান চাষিদের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে যাতে এই পান বিভিন্ন বাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। রবিবার ও বুধবার তাঁরা পান তুলে হাটে যেতেন। এই দু’দিন পান পাঠানোর ব্যবস্থা করলেই তাঁদদের সংসার বেঁচে যায়।