দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনায় আক্রান্ত হয়ে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে আরও এক জনের মৃত্যু হল মঙ্গলবার ভোরে। এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে শিল্পাঞ্চলে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দু’জন মারা গেলেন।
আসানসোল জেলা হাসপাতালের প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবের এক কর্মীর শরীরে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তখন তাঁকে আসানসোলের এইচএলজি মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে দুর্গাপুরের সনকা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। দিন তিনেক আগে তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গতকাল রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ (ইংরেজি হিসাবে মঙ্গলবার ভোর রাতে) তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।
ওই ব্যক্তি আসানসোল জেলা হাসপাতালের প্যাথোলজিক্যাল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। তিনি থাকতেন আসানসোল দক্ষিণ থানার মহিশীলা কলোনির বটতলা বাজারের একটি আবাসনে। করোনায় তাঁর মৃত্যুর খবরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীরা শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।
আসানসোল পুর নিগমের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বলেন, “ওই হাসপাতাল কর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরে আমি নিজে ওঁর বাড়িতে গেছি। ওঁর বিছানা থেকে ঘর – সব স্যানিটাইজ করেছি। উনি যে পাড়ায় থাকতেন সেই পাড়াটাও পুরো স্যানিটাইজ করা হয়েছিল পুর নিগমের পক্ষ থেকে। প্রথমে এখানে চিকিৎসা শুরু করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওঁকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। উনি আজ মারা গেছেন। খুবই দুঃখের কথা। খুব খারাপ লাগছে। উনি যে এলাকায় থাকতেন সেখানের সব বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে বের না হতে অনুরোধ করেছি। একই সঙ্গে বলেছি যাতে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে কোভিড টেস্ট করিয়ে নেন যত দ্রুত সম্ভব।”
সোমবারের সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একশো বাষট্টি জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একশো আঠাশ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। ৫ জুলাই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন উনত্রিশ জন। সর্বশেষ সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বাইশ হাজার নশো সাতাশি। এঁদের মধ্যে অবশ্য সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যেই বাড়িতে ফিরে গেছেন পনেরো হাজার দুশো পঁয়ত্রিশ জন।
রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলায় বিশেষ করে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে বহু পরিযায়ী শ্রমিকের বাস। এখানের বিভিন্ন কারখানায় ও কয়লাখনিতে কাজের সূত্রে অন্য রাজ্য থেকে প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক বসবাস করেন। তাই করোনা ভাইরাসের নিরিখে এই জায়গাটি বেশ স্পর্শকাতর।