দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় আরও এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত দুষ্কৃতী দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে টিটাগড় থানার পুলিশ খবর পায়, উত্তর ২৪ পরগনাতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের কাছে লুকিয়ে রয়েছে এক দুষ্কৃতী। সেই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে হানা দেয় টিটাগড় থানার পুলিশ। সেখান থকে নাসির আলি মণ্ডল নামের এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নাসিরের বাড়ি বাসন্তীতে। মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী সে। অনেক দিন ধরে পুলিশ তাকে খুঁজছিল। শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে মণীশ মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জন।
মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় এর আগে পাঞ্জাব থেকে দুই শার্প শ্যুটারকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বা সিআইডি। পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করা হলেও আদতে তারা বিহারের বাসিন্দা। তারা দু’জনেই ভাড়াটে খুনি। তাদের নাম রোশন যাদব ও সুদীপ কুমার রাই। বিহারের ছাপড়ার বাসিন্দা তারা। ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের বাংলায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে খবর।
গত ৪ অক্টোবর রাতে টিটাগড় থানার সামনেই গুলিবিদ্ধ হন মণীশ শুক্ল। আততায়ীরা এসে কাছ থেকে একের পর এক গুলি করে তাঁকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তারপরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। পথ অবরোধ শুরু করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। শুধু সেদিন নয়, পরের দিন মণীশের মরদেহ নিয়ে ময়নাতদন্তের পরে কলকাতায় বিজেপির মিছিল ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিবিআই তদন্তের দাবি জানায় বিজেপি। যদিও তদন্ত তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে।
বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুন হওয়ার ১২ ঘন্টার মধ্যে খুররমকে আটক করেছিল পুলিশ। ভোর রাতে খুররমের বাড়ি থেকেই তাকে তোলা হয়। মণীশের সঙ্গে খুররমের পুরনো শত্রুতা যে রয়েছে তা টিটাগড়ের অনেকেই জানেন। তার পর তাকে জেরা করেই একটার পর একটা লিড পেয়েছে সিআইডি।
জানা গিয়েছে, যেখানে মণীশকে খুন করা হয়েছিল তার মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের দোতলায় ভাড়াটে খুনিরা এক মাস ধরে ছিল। তাদের খাবার দাবার, বাইক ইত্যাদি যোগান দেওয়ার কাজ করেছিল সুবোধ রাই নামের এক দুষ্কৃতী। তাকে গ্রেফতারও করা হয়। এই সুবোধ রাইকে জেরা করে খুনের ঘটনায় ব্যবহার করা বাইক, আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
তারপরেই মণীশ শুক্ল খুনের ঘটনায় আরও এক সুবোধের খোঁজ পায় সিআইডি। তার নাম সুবোধ সিং। পাটনা জেলে বন্দি সুবোধ। পাটনা জেলে গিয়ে সুবোধকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র অফিসাররা। পাটনা জেলে বসে খুনের পরিকল্পনা করেছিল এই সুবোধই। বিহার থেকে ৬ জন ভাড়াটে খুনি সেই জোগাড় করে ব্যারাকপুর-টিটাগড়ে পাঠিয়েছিল। সুবোধ একজন সুপারি কিলার। তা ছাড়া ডাকাতি, রাহাজানি সব রকমের অপরাধের ঘটনায় দীর্ঘ দিন ধরে হাত পাকিয়েছে সে। এরপরে এই মামলায় একের পর এক দুষ্কৃতীকে ধরছে পুলিশ।