দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই যে চলছে চিনা মাঞ্জা ও নাইলনের সুতোর ব্যবহার তার প্রমাণ পাওয়া গেল নদিয়ার শান্তিপুর শহরের মতিগঞ্জে। মঙ্গলবার রাতে সেখানে নাইলনের সুতোয় জড়িয়ে আহত হয়েছেন সঞ্জয় গুহ নামে এক ব্যক্তি। সন্ধ্যায় সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সুতো গলায় পেঁচিয়ে যায়। তাতে গলার বেশ খানিকটা অংশ কেটে যায়। আহত ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্রেফ কপালজোরে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। রথযাত্রা বা সোজা রথের দিনও এক ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হতে যেতেই নাকে সুতো জড়িয়ে নাকের বেশ খানিকটা অংশ কেটে যায়।
স্থানীয় ভাবে বেশ কিছু দিন ধরেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে এই সমস্ত লাইলন সুতা যার ফলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, অবিলম্বে এর ব্যবহার বাস্তবে বন্ধ না করতে পারলে যে কোনও দিন তা প্রাণহানির কারণ হতে পারে। নাইলন সুতো ও চিনা মাঞ্জা গলায় জড়িয়ে প্রাণহানির উদাহরণও আছে। প্রশাসন বহু বার চিনা সুতো সম্পর্কে সচেতন করলেও এখনও তা বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ হয়নি। গত এক মাসে শুধু শান্তিপুরেই আহত হয়েছেন তিনজন।
রথের দিন ঘুড়ি ওড়ানোকে রীতি বলাই যায়। বিভিন্ন রকম প্রচারের কাজেও ঘুড়ি ওড়ানো হয়। অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে চিনা সুতো। ঘুড়ি কাটবার পর সেই সুতো বিভিন্ন তার ও গাছ থেকে ঝুলে থাকছে রাস্তা পর্যন্ত। সেগুলো এতটাই সরু যে আচমকা বোঝা যায় না। রাতের দিকে তো একেবারেই বোঝা যায় না।
সিন্থেটিক সুতোয় তো বটেই, সাধারণ ঘুড়ির সুতোতেও চিনা-সহ সমস্ত মাঞ্জা গত ৩০ জুন নিষিদ্ধ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। এর আগে গত ২৫ মার্চ রাজ্যের পরিবেশ দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্যে সব ধরনের মাঞ্জার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিবেশ দফতরের সেই নির্দেশ অবশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে এই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্য সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে।
মাঞ্জা সুতোর জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কলকাতার মা ফ্লাইওভারে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেশ কয়েক জন বাইক আরোহীর গলায় মাঞ্জা সুতো পেঁচিয়ে যায়। তাঁরা গুরুতর আহত হন। একজনের মৃত্যুও হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ইকো পার্কে যাওয়ার পথে একৃ আইনজীবী গুরুতর আহত হন। মাঞ্জা সুতোয় তাঁর থুতনি কেটে যায়। তিনিই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন।