দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে পাড়ায় অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই অশান্তি থেকেই শুরু হয় সংঘর্ষ। আর সেই সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃতের নাম মহম্মদ আকবর ওরফে কালো।
সূত্রের খবর, রবিবার রাতে বর্ধমান শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পীরবাহারামের ডাঙাপাড়ায় একটি ক্লাবের দখলদারি নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। আকবরের স্ত্রী জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই একদল ছেলে তাঁর স্বামীকে আক্রমণ করে। রড, লাঠি, কুড়ুল দিয়ে মারধর শুরু করে তারা। আকবরের মাথায় কুড়ুলের কোপ মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কুড়ুলের আঘাতে ক্লাবের সামনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষের খবর শুনে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায়, ডিএসপি (হেডকোয়ার্টার) শৌভিক পাত্র, বর্ধমান থানার অফিসার ইন চার্জ পিন্টু সাহা প্রমুখ ঘটনাস্থলে যান।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। পাড়ার একদল যুবক দিঘা বেড়াতে যাওয়ার জন্য ক্লাবের বাইরে একটা ব্যানার টাঙায়। শনিবার রাতেই সেই ব্যানার ছিড়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, একটি গুমটি দোকানে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। সেই ঘটনা নিয়ে রবিবার সকাল থেকেই পাড়ায় অশান্তি চলছিল। এমনকি রবিবার সকালে পুলিশও যায় সেখানে।
আকবরের আত্মীয় তথা ওই পাড়ারই বাসিন্দা শেখ হাবিব বলেন, “শনিবার রাত থেকেই পাড়ায় গণ্ডগোল হওয়ায় কোনও বাড়িতে সেভাবে রান্নাবান্না হয়নি। তাই রবিবার রাতে ক্লাবের পাশে একটি বাড়িতে রান্নাবান্না করে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া হচ্ছিল। সেই সময়ই একদল যুবক অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মারের চোটে কালো মাটিতে পড়ে গেলে ওর মাথায় কুড়ুলের কোপ মারা হয়।”
এই ঘটনার পরে পাড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেই খবর।