দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ার পরেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। আক্রান্তের পরিবারের সকলকে তো বটেই, তাঁর প্রতিবেশীদেরও পাঠানো হয়েছে আইসোলেশনে। এখনও পর্যন্ত এই জেলায় মোট ৩০ জনের করোনা টেস্ট হয়েছে।
বহরমপুর মাতৃসদনে এখন করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শনিবার সেখানে উপস্থিত হন ডিআইজি (মুর্শিদাবাদ) শ্রী মুকেশ, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কে শবরী রাজকুমার, জেলাশাসক জগদীশ প্রসাদ মীনা, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (সিএমওএইচ) প্রশান্ত বিশ্বাস ও অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা মূলত আইসোলেশন বিভাগের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেনে। তারপর বহরমপুর সদর হাসপাতালকে আইসোলেশন করার চিন্তাভাবনা নিয়ে সেখানে পরিদর্শনে যান পুলিশ, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।
সিএমওএইচ প্রশান্ত বিশ্বাস এদিন বলেন, “মুর্শিদাবাদে এক জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। তারপর তাঁর পরিবারের এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে মোট ২৮ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন যে এখনও পর্যন্ত জেলায় ৩০ জনের করোনা টেস্ট করানো হয়েছে।
রাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খোঁজার জন্য টেস্ট কম করা হচ্ছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে। উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রথম দিকে রাজ্যে টেস্ট করার কেন্দ্র ছিল একটি। পরে বাড়ানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাছাড়া টেস্ট করার প্রশিক্ষিত কর্মীও কম। তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে। সেই কারণেই পরীক্ষা কম হচ্ছে। তবে প্রথম দিকে নাইসেডে অনেক বেশি পরীক্ষা হলেও সম্প্রতি কেন সেটা কমে গেল সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি।
গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনা সংক্রামিত হয়েছেন ৩২ জন। ১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আপডেট অনুযায়ী রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৭। সেরে উঠেছেন ৫৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আপডেট অনুযায়ী রাজ্যে করোনা অ্যাকটিভ সংখ্যা হওয়ার কথা ২২২ জন। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছেন বাংলায় করোনা অ্যাকটিভ ১৬২ জন। যা রাজ্যের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। রাজ্য এবং কেন্দ্রের তথ্যের মধ্যে ফারাক অনেকটাই। বাকি ৬০ জনের করোনা সংক্রমণ নিয়ে ধন্ধ রয়েই গিয়েছে। যদিও শনিবার সকালে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের কোনও তথ্য রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া অনেকের মতে, করোনা আক্রান্ত হলেও রাজ্য সরকারের মতে অনেকে অন্য কোনও রোগে (যেমন ক্যান্সার,কিডনির সমস্যা, হৃদরোগ) মারা যাচ্ছেন। ফলে সেই সব ক্ষেত্রে তা অ্যাকটিভ কেস বলে হয়তো গণ্য হচ্ছে না।