দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লকডাউনের মধ্যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সুন্দরবনে। ভটভটি ডুবে তিন বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন আরও একজন।
ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের মাতলা ও হোগলা নদীর সংযোগস্থল বাসন্তী থানার মগখালি এলাকায়। জানা গিয়েছে, গতকাল ক্যানিং থানার ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গোলাবাড়ি গ্রামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য বাসন্তীর সোনাখালির মগখালি এলাকা থেকে ভটভটিতে চেপে ২২ জন আত্মীয় মৃতের বাড়িতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় সব ঠিকই ছিল। গোল বাধে ফেরার সময়।
জানা গিয়েছে, গোলাবাড়িতে মৃত আত্মীয়কে কবর দিয়ে ২২ জন এদিন দুপুরে ভটভটিতে চেপেই মগখালিতে ফিরছিলেন। কিন্তু নিম্নচাপের দরুণ হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছিল। সেইসঙ্গে গতকাল কৌশিকী অমাবস্যা থাকায় জোয়ার-ভাটার নদীতে স্রোতের টান ছিল মারাত্মক। আচমকা প্রবল স্রোতের মধ্যে পড়ে ভটভটি ডুবে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভটভটি ডুবে যাওয়ার পরে মাঝি ও ২০ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে ওঠেন। কিন্তু জলে ডুবে তিন বছরের একটি শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি বাসন্তী থানার ভরতগড় গ্রামে। সেইসঙ্গে বছর ৪৫-এর আনজেদ জমাদার নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে খবর।
জানা গিয়েছে, এদিন লকডাউন থাকায় সেরকম ভটভটি চলাচল হচ্ছিল না। তাই একটা ছোট ভটভটিতেই চেপেছিলেন ২২ জন। প্রবল স্রোতের মধ্যে তাই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি মাঝি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, তাও ভাগ্য ভাল যে পাড়ের কাছে ভটভটি ডুবে যায়। তাই ২০ জন সাঁতরে উঠে আসতে সক্ষম হন। মাঝ নদীতে এই দুর্ঘটনা হলে আরও অনেকের মৃত্যু হত বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
ভটভটি ডোবার সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বাসন্তী থানায়। সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় পুলিশ। নদীতে ডুবুরি নামানো হয়। শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হলেও অন্যজনের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখনও খোঁজ করছে তারা। কিন্তু এভাবে লকডাউনের মধ্যে কী ভাবে ভটভটি করে নদী পারাপার হচ্ছিল তা নিয়ে ভটভটির মাঝিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।