দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের সময় প্রোটিনের জোগান দিতে দুঃস্থ পরিবারের হাতে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি তুলে দেওয়া হল একটি করে জ্যান্ত ব্রয়লার মুরগি। বারাসতের নপাড়ার দাস পরিবারের এই ভাবনা শহরের নিরিখে একেবারেই অভিনব।
নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। দোকান-বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া গেলেও রোজগার না থাকায় অনেকেরই সেসব কেনার সামর্থ নেই। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠন তো বটেই, অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বেশির ভাগ জায়গাতেই দেওয়া হচ্ছে চাল-আলু প্রভৃতি। এসবে পেট ভরে ঠিকই তবে পুষ্টির জোগান হয় না বললেই চলে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো একান্ত ভাবেই দরকার। একথাই প্রচার করা হচ্ছে। তাই প্রোটিনের জোগান দিতে সম্পূর্ণ পারিবারিক উদ্যোগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে বহু পরিবারকে একটি করে গোটা মুরগি দিল স্থানীয় দাস পরিবার। তুলে দেওয়া হল অন্য খাবারও।
শুক্রবার শেষ বেলায় স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে বারাসতের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে দাস পরিবারের পক্ষ থেকে এগুলি প্রদান করা হয়।
পরিবারের অন্যতম সদস্য তুহিন দাস বলেন, “প্রতিবছর এই সময় আমাদের বাড়িতে বাসন্তীপুজো উপলক্ষ্যে লোকজনকে খাওয়ানো হয়। এবার আমরা সেই আয়োজন করতে পারছি না লকডাউন চলায়। তার বদলে আমরা দরিদ্রদের প্রোটিনযুক্ত খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা করি। সেই মতো আমরা এগুলি প্রদান করি সব বিধি মেনে।” লোকে যখন চাল কিনতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন তখন তাঁরা দিলেন এমন জিনিস যা বেশ কয়েক দিন রেখে দেওয়া যাবে আবার পুষ্টিকর ও সুস্বাদুও বটে। মুরগির পাশাপাশি তাঁরা চাল, আলু, ভোজ্য তেল, নুন প্রভৃতিও প্রদান করেন শতাধিক দুঃস্থ পরিবারকে।
যেসব পরিবারকে তাঁরা এই জিনিস দিয়েছেন সেইসব পরিবার অবাক হয়ে গেছে। বেশিরভাগ পরিবার আজ শনিবার এই খাবার খাবে। যাঁরা ধর্মীয় কারণে শনিবার মাংস খান না তাঁরা রবিবার খাবেন ঠিক করেছেন কারণ কোনও জিনিসই পচে যাওয়ার নয়।