দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: চালককে মারধর করে গাড়ি, টাকা ও মোবাইল নিয়ে চম্পট দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সঞ্জয় সিং। কলকাতার মেটিয়াবুরুজ থানার দেওয়ানবাগান লেনে ধৃতের বাড়ি। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ধৃত নিজেও গাড়িচালক।
পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদে নিজের অপরাধের কথা ধৃত কবুল করেছে ধৃত। পেশাগত শত্রুতার কারণে এই ঘটনা বলে জেনেছে পুলিশ। এই কাজের জন্য ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের নিয়োগ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। গাড়ি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধারের জন্য এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতকে ১৪ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতকে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম সুজিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১১টা নাগাদ কলকাতার রাণী রাসমণি রোডে দিঘা বাসস্ট্যাণ্ডের কাছ থেকে একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি ভাড়া করে তিনজন। গাড়িটির মালিক কলকাতার মহেশতলা থানার বিধানগড়ের বাসিন্দা খুরশিদ আহমেদ। তিনিই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। ওই ৩ জন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার গোবিন্দনগরে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। গোবিন্দনগরে পৌঁছনোর পর তিনজন খাবারের জন্য গাড়িটিকে শক্তিগড়ে নিয়ে যেতে বলে। ভোর ৩টে ১৫ নাগাদ ভাতার থানার আমবোনা বাসস্ট্যাণ্ডের কাছে তারা প্রস্রাব করার জন্য চালককে গাড়িটি দাঁড় করাতে বলে। খুরশিদ গাড়িটিকে রাস্তার পাশে দাঁড় করান। এরপরই তিনজন স্বমূর্তি ধারণ করে বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, আগ্নেয়াস্ত্র বের করে খুরশিদকে তিনজন মিলে মারধর করে। এরপর তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে তারা। তিনি যাতে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে না পারে সেজন্য তাঁর মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর কাছে থাকা ৭ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল কেড়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। তাঁকে মাঠের মধ্যে ফেলে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় খুরশিদকে উদ্ধার করেন। খুরশিদ নিজেই ঘটনার কথা জানিয়ে ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি লোহার রড, সেলোটেপ, সুতলি দড়ি, চটি, গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট বাজেয়াপ্ত করে। দুষ্কৃতীদের ধরতে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, যেখান থেকে দুষ্কৃতীরা গাড়িতে উঠেছিল সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ কলকাতা পুলিশের ডিসি ট্রাফিকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ভাতার থানার তদন্তকারী অফিসাররা। এছাড়াও যে পথ দিয়ে গাড়িটি এসেছিল সেখানকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নেয় পুলিশ। খুরশিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা রয়েছে কিনা তা জানতে চায় পুলিশ। পুলিসকে খুরশিদ জানান, সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর পেশাগত শত্রুতা আছে। বেশ কয়েকবার তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে সঞ্জয়। এরপর পুলিশ সঞ্জয়কে রাসমণি রোডের বাসস্ট্যাণ্ডে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানকার অন্যান্য গাড়ির চালকরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করলেও সঞ্জয় এড়িয়ে চলে।
জানা গিয়েছে, সঞ্জয়ের কথাবার্তা পুলিশের সন্দেহজনক বলে মনে হয়। পুলিশকে সে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। এমনকি সে তাড়াতাড়ি গাড়ি স্ট্যাণ্ড ছেড়ে চলে যায়। এতে তার উপর পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। রাতে বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তারপরেই জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে সে।