দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলেন বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশের সাহায্যে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার শ্যামনগরের নোনাবাবা ঘাটে। শ্যামনগরের পীড়তলার বাসিন্দা বৃদ্ধ দম্পতি বিশ্বনাথ দাস ও সবিতা দাসের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে শেওড়াফুলিতে। বিশ্বনাথবাবু একটি বেসরকারি জুটমিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। সামান্য পেনশন পান তিনি। ছেলে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছেলে প্রায়ই বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর করে। রবিবার সকালেও একই ঘটনা ঘটে। এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিশ্বনাথবাবু ও সবিতাদেবী গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে ঠিক করেন। তাই তাঁর নোনাবাবা ঘাটে যান।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে গঙ্গার ঘাটে নামতে দেখে সেখানে থাকা লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা দু’জনকে ঘিরে সেখানে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করতে থাকেন। প্রথমে তাঁরা কিছু না বললেও পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা জানান, ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই আত্মহত্যা করতে গিয়েছেন তাঁরা।
এই খবর শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা জগদ্দল থানায় খবর দেন। জগদ্দল থানার ওসি দেবর্ষি সিনহা সেখানে সুমিত সাহা নামের এক সাব ইন্সপেক্টরকে পাঠান। তাঁকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশের কাছে অবশ্য ছেলের নামে কোনও অভিযোগ করতে রাজি হননি বাবা-মা।
অবশেষে বিশ্বনাথবাবু ও সবিতাদেবীকে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান ওই সাব ইন্সপেক্টর। ছেলেকে বুঝিয়ে বাবা-মাকে বাড়িতে দিয়ে এসেছেন তিনি। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও প্রতিবেশীদের কাছে ফোন নম্বর দিয়ে এসেছেন সুমিত সাহা। তাঁদের বলা হয়েছে, কোনও সমস্যা হলেই পুলিশে খবর দিতে। বৃদ্ধ দম্পতির যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে ছেলেকে।