দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভাইরাসের আশঙ্কার মধ্যেই কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে বেড়ে চলেছে সোয়াইন ফ্লু'র প্রকোপ। সরকারি ভাবে গত এক মাসে সোয়াইন ফ্লু'য়ে আক্রান্তের সংখ্যাটা ২২। এই অবস্থায় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছেন চিকিৎসকেরা। রাজ্যবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, গত এক মাসে এই রাজ্যে ২২ জন সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অবশ্য অনেকে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। যদিও বেসরকারি মতে সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত দুই সপ্তাহে ১০ জনের নমুনায় সোয়াইন ফ্লু পাওয়া গিয়েছে। তিনজন ভর্তিও হয়েছেন গত কয়েক দিনে। তাদের মধ্যে দু'জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও একজন চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার একটি পরিবারের ৬ জন সোয়াইন ফ্লুয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন। যদিও তারা সবাই এখন সুস্থ আছেন বলেই খবর।
এই অবস্থায় অবশ্য আতঙ্কিত না হওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তীর বক্তব্য, "এখন সোয়াইন ফ্লু আর বিদেশি ভাইরাস নয়। তা এদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। তাই আগের মতো আর সোয়াইন ফ্লু বিপজ্জনক নয়। বর্তমানে এটা সাধারণ ভাইরাস। তাই চিন্তা করার কিছু নেই।" অজয়বাবু আরও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ভবন পুরো বিষয়টার উপর কড়া নজর রেখেছে। খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। দরকার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সুমন পোদ্দার বলেন, "সোয়াইন ফ্লু তো এখন অপরিচিত কোনও জীবাণু নয়। এর চিকিৎসাও আছে। তবে সোয়াইন ফ্লু'র সঙ্গে যদি ডায়াবেটিস বা লাং ডিজিজের মতো কিছু হয়, তাহলে সোয়াইন ফ্লু'র এফেক্ট বেশি হয়। কিন্তু এটা তো করোনা ভাইরাসের মতো নয়, যে চিকিৎসা নেই। যথাযথ সময়ে চিকিৎসা করালে সোয়াইন ফ্লু অধিকাংশই কিউরেবল।" তিনি আরও বলেন, "এর প্রভাব এবার সবে শুরু হল। এমনিতেই মানুষ এখন করোনা ভাইরাসের জন্য অনেক সাবধানতা অবলম্বন করছে। সেই সাবধানতা অবলম্বন করলেই এই ভাইরাস আটকানো অনেকটাই সম্ভব। ফলে আগের মতো এবার আর ছড়ানো উচিত নয়। তবে সোয়াইন ফ্লুয়ের একটাই ভয়ের ব্যাপারে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর সংখ্যা করোনা ভাইরাসের থেকে বেশি। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সোয়াইন ফ্লু হলেও সেই জ্বর, কাশি দিয়েই শুরু হয়। তাই কিছু মনে হলেই ডাক্তার দেখান। নিজেকে অন্যদের থেকে দূরে রাখুন।"
এই ব্যাপারে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, "আমি টিভিতে দেখলাম পুরোটা। আমাদের স্বাস্থ্য দফতর সোয়াইন ফ্লু নিয়ে সজাগ আছে। সবটার দিকেই নজর রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। আমরা গঙ্গার ধার থেকে যতটা পারব শুয়োর তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আগেও এগুলো করা হয়েছে। তবে কলকাতায় যে ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছে বলা হয়েছে, তারা সবাই কলকাতার নয়। এরা অনেকেই অন্য জায়গা থেকে এসে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।"