দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুতো কেলেঙ্কারির জেরে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। আপাতত এই হাসপাতালের এসএনসিইউ বা সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক দিন সেলাইয়ের সুতো ছিঁড়ে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটের ভেতরে বা অস্ত্রোপচারের টেবিলে কোনও সংক্রমণ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এই মুহূর্তে এই বিভাগকে জীবাণুমুক্ত করা সবার আগে প্রয়োজন বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই এই বিভাগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে এসএনসিইউ থেকে সবাইকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। যতদিন না এই বিভাগ জীবাণুমুক্ত হচ্ছে ততদিন তা বন্ধ থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। সব মিটে যাওয়ার পরে ফের খোলা হবে এসএনসিইউ। কিন্তু সেটা কবে হবে সেই ব্যাপারে এখনও কিছু জানাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনআরএসে মৃত্যু হয় দশ দিনের এক শিশুর। অভিযোগ, পরপর তিনবার একই ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার হয়েছিল ওই একরত্তির দেহে। আর প্রতিবারই সেলাই করা হয়েছে নিম্নমানের সুতো দিয়ে। একে টানা তিনবার অস্ত্রোপচার, তার উপর নিম্নমানের সুতো, পরিবারের অভিযোগ এই ধকল সইতে না পেরেই মারা যায় বাচ্চাটি। পরিবারের অভিযোগ, ওই সুতো থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল শিশুটির শরীরে।
শনিবার ফের মৃত্যু হয় এক শিশুর। মালদার গাজলের বাসিন্দা ওই সদ্যোজাতকে ১৬ ফেব্রুয়ারি এনআরএসে ভর্তি করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি শিশুটির মলদ্বারে অস্ত্রোপচার করা হয়। অভিযোগ, অতি নিম্নমানের সুতো দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পরেই সেই সুতো ছিঁড়ে যায়। পরে ফের একবার একই জায়গায় অস্ত্রোপচার করেন ডাক্তাররা। পরপর দু’বার একরত্তির শরীর অস্ত্রোপচারের ধকল সামলাতে পারেনি। সূত্রের খবর, এর কারণে শিশুটির শরীরে সংক্রমণও ছড়ায়। সেটি সহ্য করতে না পেরেই মৃত্যু হয় তার।
এই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হয় সমালোচনা। গোটা ব্যাপারটা নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগ। তাদের তরফে লিখিতভাবে নমুনাসহ জানানোও হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। কোন সংস্থা ওই সুতো সরবরাহ করেছে তার খোঁজ চালাচ্ছে এনআরএস কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারপরেই অস্থায়ীভাবে এসএনসিইউ বিভাগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।