দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর দিনাজপুরে প্রকাশ্যে এল বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল। বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই দলের মূল সংগঠনের সঙ্গে যুব সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তালমিলের অভাব দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গেও নেতাদের বিরোধ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এবার পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে জেলা সভাপতির সঙ্গে অভব্য আচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগে দলের জেলা যুব সভাপতিকে কারণ দর্শানোর চিঠি ধরিয়েছে বিজেপি। গত পয়লা জুলাই রায়গঞ্জে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে ধাক্কা মারার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন জেলার যুব সভাপতি ভক্তকুমার রায় – এমনটাই অভিযোগ করেছেন জেলা বিজেপি সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী নিজে।
বিশ্বজিৎ লাহিড়ী অভিযোগ করেছেন, সেই সময়ে ভক্তকুমার রায়ের সঙ্গে দলের কর্মীদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও জোর করে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করে। গত ২ জুলাই বিজেপির যুব সভাপতি এবং আরও তিন জনকে এই ঘটনার জন্য কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ভক্তকুমার রায় অবশ্য এখনও পর্যন্ত সেই চিঠির কোনও জবাব দেননি।
অভিযুক্তের দাবি, চিঠির বয়ান অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। চিঠি হাতে পাওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত সাত দিনের সময়সীমা পেরিয়ে যায়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তিনি এই চিঠির জবাব দেবেন।
বিজেপি জেলা সভাপতির সঙ্গে উত্তপ্ত বাদানুবাদের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ভক্তকুমার রায়। তবে অভব্য আচরণের পাশাপাশি ধাক্কাধাক্কির করার যে অভিযোগ উঠেছে তা অবশ্য তিনি খারিজ করে দিয়েছেন। প্রয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবিও তিনি করেছেন।
সমগ্র বিষয়টিতে দলের রাজ্য কমিটির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন উভয় পক্ষই। এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির জেলা কমিটির মধ্যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। নির্মল দামের বদলে বিশ্বজিৎ লাহিড়ীকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে যুব স্তরে কানাকানি শুরু হয়ে যায় এবার নিজের পছন্দের লোককে যুব সংগঠনের দায়িত্ব দেবেন বিশ্বজিৎ। যদিও তা নিয়ে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করেননি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী। কিছুদিন আগে দলের যুব রাজ্য সভাপতি বদল হয়েছে। তারপরে জেলায় কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সে ব্যাপারে বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর কাছে নাম চেয়ে পাঠায় রাজ্য নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, তিনি মাত্র এক জনের নাম পাঠান। তখন দলের তরফে তিন জনের নাম চেয়ে পাঠানো হয়। সেই মতো তিনি তিন জনের নামই পাঠান তবে তাতে ভক্তকুমার রায়ের নাম নেই বলে দলীয় সূত্রে খবর।
এরই মধ্যে ১ জুলাই যুব মোর্চার একটি আন্দোলন কর্মসূচি ছিল। তার ডাক দেন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন যুব সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, নতুন সভাপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই যুব সভাপতি। তা হলে তাঁকে না জানিয়ে কেন যুব বিজেপির কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। শোকজ করা প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ লাহিড়ী অবশ্য বলেছন, “বিজেপি এমন একটি দল যারা কাউকে তিরষ্কার করে না, বহিষ্কারও করে না। তারা কেবল সংস্কার করে। যে কেউ শোকজের চিঠি পেতে পারেন। তাঁর উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকছে।”