দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরভোটের দামামা বাজতে এবার প্রচারে উঠে এলেন বারাসতের বামপন্থী নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী বারাসত পুর এলাকায় বামফ্রন্ট তিন নম্বরে নেমে গেছে। এই অবস্থায় উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও শহরের আনাচে কানাচে বিভিন্ন জায়গায় প্রদীপ চক্রবর্তীর নামে ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে। তাতে লেখা, “এবার বারাসত পুরসভায় প্রদীপ চক্রবর্তীকে চাই”।
এই ব্যানার ও পোস্টারে প্রচারক হিসেবে নাম রয়েছে বারাসতের নাগরিক সমাজের। গত দু’দিন ধরে এই পোস্টারকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। ‘বারাসত নাগরিক সমাজ’ চায় তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে। কারা এই ‘বারাসত নাগরিক সমাজ’, এর পিছনে কার সমর্থন আছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়েছে, পোস্টার কারা লাগিয়েছে তা দলের জানা নেই।
২০১০ সালে বারাসত পুরসভা নির্বাচনে প্রদীপ চক্রবর্তী লড়াই করেছিলেন তবে তিনি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারেননি। সেবার বারাসত পুরসভায় ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। এখনও বারাসতের পুরবোর্ড তৃণমূলের দখলেই রয়েছে।
মাঝের দীর্ঘ দশ বছরে বামপন্থী দলগুলোর ক্রমেই ভোট কমেছে। সংগঠন ও সমর্থন তলানিতে এসে ঠেকেছে। একের পর এক নির্বাচনে বারাসাত পুরসভা অঞ্চলে তৃতীয় স্থানে এসে পৌঁছেছে বামপন্থীদের প্রাপ্ত ভোট। এই অবস্থায় “বারাসতে আবার প্রদীপ চক্রবর্তীকে চাই” বলে পোস্টার পড়েছে।
প্রদীপ চক্রবর্তী অবশ্য এদিন জানিয়েছেন তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে চান না। তাঁকে চেয়ে এরকম শহর জুড়ে পোস্টার তাঁর ষাট বছরের রাজনৈতিক জীবনে অভূতপূর্ব বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁকে বারাসাত শহরের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চেয়ে আকুতি প্রকাশ করেছেন বলে মনে করেন প্রদীপ চক্রবর্তী।
বারাসাত পুরসভার দু’বারের চেয়ারম্যান প্রদীপ চক্রবর্তী কিছুদিন ধরে কার্যত প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে সরে রয়েছেন।
কমিউনিস্ট পার্টির নীতি অনুয়াযী দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। ইতিমধ্যেই প্রদীপ চক্রবর্তীর নামে পোস্টার নিয়ে দলে আলোচনা হয়েছে। সিপিএম জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী জানান, প্রদীপ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি দলে সিদ্ধান্ত হয় যে প্রদীপ চক্রবর্তীকে সামনে রেখে পুরভোটে বামফ্রন্ট লড়বে সেক্ষেত্রে তাঁকে ভোটে লড়তে হতে পারে।
প্রদীপ চক্রবর্তী লড়তে পারেন এমন কথা শোনার পর নতুন করে বারাসতের পুরভোট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে শাসকদল ও বাম-বিরোধীদের। মুখে অবশ্য এই পোস্টারে গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “পোস্টার নির্বাচনে কথা বলে না, নির্বাচনে কথা বলে মানুষ। প্রদীপ চক্রবর্তীর আমলে বারাসতের উন্নয়ন ছিল স্তব্ধ।”