দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: ক্রমাগত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুর মহকুমার বিভিন্ন বাজার এবং ব্যবসা কেন্দ্র খোলা রাখার ব্যাপারে বেশ কয়েকটা বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মহকুমা প্রশাসন। তবে আজ ১ অগস্ট থেকে তা শিথিল করে দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে মহকুমা প্রশাসন। একই নির্দেশিকা জারি হয়েছে আসানসোলেও। ফলে পুরো জেলাতেই কড়াকড়ি বন্ধ হয়ে গেল।
দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলে এদিন বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে এবং রাজ্য সরকার আগস্টের বেশ কয়েক দিন ১০০ শতাংশ লকডাউন ঘোষণা করেছে। সেই কারণে মহকুমা প্রশাসন তাদের জারি করা বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে।”
এর আগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল দুসংর্গাপুরের বিভিন্ন দোকানপাট, বাজার ও হোটেল বেলা দুটো পর্যন্ত খোলা থাকবে। কিন্তু ১ আগস্ট থেকে দুর্গাপুর মহকুমায় সব কিছুই স্বাভাবিক ভাবে চলবে। কোনও সময়ের বাধা থাকছে না। বাজার, হাট ও হোটেল সমেত সব ব্যবসাকেন্দ্র চালু রাখা যাবে সারাদিন। তবে ঘরের বাইরে বের হলেই পরতে হবে মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে। মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মহকুমা প্রশাসন।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলেও আংশিক লকডাউন চলছিল। বেলা একটার পর থেকে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। খোলা থাকছিল ওষুধের দোকান। তবে আজ শনিবার থেকে সেই নিয়ম শিথিল করা হল।
আসানসোলের মহকুমাশাসক দেবজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, “আপাতত লকডাউন উঠে গেছে। যদি পরিস্থিতির অবনতি হয় তখন আবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” গতকাল শুক্রবার মহকুমা প্রশাসন ঘোষণা করেছিল ঈদ ও রাখির জন্য লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে সাময়িক ভাবে। তারপরে শনিবার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এখানে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আংশিক লকডাউন চালু হয়েছিল।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ কোভিড-১৯ বুলেটিন অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এখনও পর্যন্ত ৮০৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। নতুন করে ২২ জন আক্রান্ত হলেও সেরে উঠেছেন ২৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন ৫২৩ জন। এখন কোভিড পজিটিভের সংখ্যা ২৭৬। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ২৭২। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি।