দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে কলকাতার জুতো কারখানা। কোম্পানির মালিক বেতন দেননি বলে হাতে টাকা নেই। এই অবস্থায় তাঁরা খাবার কিনে খেতে পারছিলেন না। টাকা বাকি রেখে কেউ খাবার দিতে রাজি নয়। তাই বাধ্য হয়েই কলকাতার সায়েন্স সিটি থেকে হেঁটে বাড়িতে ফিরছেন বিহারের নওয়াদার চার যুবক।
সায়েন্স সিটি থেকে নওয়াদার দূরত্ব প্রায় ৪৬০ কিলোমিটার। সেখান থেকে যেতে হবে গ্রামে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার হাঁটতে হবে তাঁদের। বুধবার পর্যন্ত তাঁরা অর্ধেকের বেশি পথ হেঁটে পার হয়ে আসানসোলের ডুবুরডিহি চেকপোস্টে এসে পৌঁছন। তখন তাঁরা একেবারে পরিশ্রান্ত। ওই চার যুবকের অন্যতম বাল্মিকী রাজবংশী জানান যে কলকাতা থেকে তাঁরা রবিবার হাঁটতে শুরু করেছেন। আন্দাজ অর্ধেকের বেশি রাস্তা পার করে ফেলেছেন। আরও আড়াইশো কিলোমিটার মতো হাঁটলে তবে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে পৌঁছবেন। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ির লোকজন চিন্তায় আছে। রাস্তায় জল ও ফল আমরা খেতে পাচ্ছি। অন্য কোনও খাবার পাইনি।” আর দিন তিনেক কষ্ট করলেই বাড়িতে ফিরতে পারবেন বলে তাঁদের আশা।
শুধু হাঁটাই নয়, প্রয়োজনে সাঁতরে নদীও পার হতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
মালদহের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এদিন বারাণসী থেকে ডুবুরদিহি চেকপোষ্টের কাছে এসে পৌঁছন একটি ট্রাকে চেপে। তাঁরা রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে বারাণসী গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। যেটুকু টাকা তাঁদের ছিল এখানে আসতেই সেই টাকা শেষ হয়ে যায়। তাঁরাও বাকি পথ হেঁটে ফিরবেন বলে জানান।
দেশজোড়া লকডাউনের জেরে বিভিন্ন জায়গাতে আটকে পড়েছেন বাড়ি থেকে দূরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা। ফেরিওয়ালারাও আটকে পড়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। কোথাও স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের ফেরার ব্যবস্থা করছে কোথাও তাঁরা ফিরছেন হেঁটে। রাস্তার ধারের সব ভাতের হোটেল এখন বন্ধ থাকায় তাঁদের অনেকেই খেতে পাচ্ছেন না কিছুই। অনেকের আবার খাবার কিনে খাওয়ার মতো টাকাই নেই।