দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী আজ থেকে রাজ্যের সব ক’টি জুটমিল খুলে যাওয়ার কথা ছিল। পনেরো শতাংশ শ্রমিককে দিয়ে কাজ শুরু করার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশিকার কথা শুনে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জুটমিলগুলিতে আজ সকালে কাজে চলে আসেন শ্রমিকরা। তবে এসে দেখেন যে জুটমিলের মূল ফটকই বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মিল খোলার ব্যাপারে কোনও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
সরকারি নির্দেশিকা পাওয়ার পরে জুটমিল আজই খুলবে বলে আশা করেছিলেন বিভিন্ন মিলের শ্রমিকরা। কিন্তু তা হল না। কোনও মিলেই ‘বাঁশি বাজেনি’ সোমবার সাকালে। ফলে এদিন দৃশ্যতই তাঁরা ছিলেন হতাশ। মিল খুলবে এই আশায় অনেকে অপেক্ষাও করতে থাকেন।
রমেশ সাউ নামে এক জুটমিল শ্রমিক বলেন, “আমরা টিভি দেখে জানতে পেরেছিলাম যে অল্প শ্রমিক নিয়ে মিল খুলবে। আমরা চলে এসেছিলাম কিন্তু আজকে কোনও বাঁশি বাজেনি মিল খোলার। সরকার বলেছিল পনেরো শতাংশ শ্রমিক নিয়ে মিল চালাতে কিন্তু সেভাবে তো মিল চলে না কারণ নিজেদের ভিতরে ঝগড়া সৃষ্টি হয়ে যাবে। এখন ম্যানেজমেন্ট ও ইউনিয়ন বসে ঠিক করুক কী হবে।”
উত্তর ২৪ পরগনার সিটুর জেলা সম্পাদক গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সরকার বেতন দিতে বললেও কোনও শ্রমিক বেতন পাননি। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে যে কোন পনেরো শতাংশ শ্রমিক কাজ করবেন। তা ছাড়া আমরা চেয়েছিলাম সাত ঘণ্টা করে শিফট হোক এবং তার পরের এক ঘণ্টা চটকল স্যানিটাইজ করার জন্য রাখা হোক। প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য মাস্ক ও স্যানিটাইটাজের ব্যবস্থা করা হোক। এখানে একবার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তা রোখা মুশকিল হবে। কিন্তু আমাদের দাবির কথা কানেই তোলেনি মিল কর্তৃপক্ষ। আজ কাজ শুরু হয়নি।”
এব্যাপারে কোনও মিল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটককে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও জবাব আসেনি।