দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে সদ্য। তাতে সৌমিত্র খাঁ, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, খগেন মুর্মু, দুলাল বরদের পুনর্বাসন হয়েছে। কিন্তু সর্বভারতীয় বিজেপি সূত্রে খবর, একুশের লড়াইয়ের আগে তাঁদের সমরসজ্জা এখনও শেষ হয়নি। বরং আস্তিনে লুকনো রয়েছে আরও।
তা কী?
এক, প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের রাজনৈতিক উত্তোরণের বিষয়টি এখনও বকেয়া রয়েছে। বিজেপি সূত্রে এক সময়ে বলা হচ্ছিল, সর্বভারতীয় সংগঠনে রদবদলের সময়ে মুকুলবাবুকে বড় কোনও পদ দেওয়া হতে পারে। তার ইঙ্গিত কলকাতায় এসে শহিদ মিনারের সভায় দিয়েছিলেন খোদ প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির ১৮ টি আসন জয়ের নেপথ্যে মুকুলবাবুর অবদানের কথা সেই মঞ্চ থেকে অকপটে জানিয়েছিলেন শাহ।
ঘটনা হল, জগৎপ্রকাশ নাড্ডা বিজেপি সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বভারতীয় সংগঠনে রদবদল এখনও বকেয়া রয়েছে। অনেক আগেই তা হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে অগ্রাধিকার স্বাভাবিক ভাবেই বদলে গিয়েছিল। তবে এ বার তা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সে কাজ ফের শুরু করেছেন তা সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি বদলের ঘটনায় পরিষ্কার।
এ ক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভাল, বিজেপির অভ্যন্তরীণ রসায়ন ও ব্যবস্থাপনা এখন আর আডবাণী-বাজপেয়ী জমানার মতো নেই। বাংলায় ঠিক যেমন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকে কোন দায়িত্ব দেবেন তা আগে থেকে বিশেষ টের পাওয়া যায় না। কেবলমাত্র সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি যে হাতেগোণা দু-চার জনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের থেকে চুঁইয়ে যা বাইরে আসে তা থেকে ধারণা তৈরি করা হয়।
বিজেপি-তেও এখন অনেকটা তেমনই। মোদী-অমিত শাহ সিদ্ধান্ত নেন। তার পর তা বাস্তবায়ণের আগে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার সময়ে যে টুকু চুঁইয়ে বাইরে আসে তা থেকে কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় বিজেপির এক নেতার কথায়, সেই সব তথ্যের ভিত্তিতেই বলা যায়, যে নেতাটিকে লোকসভা ভোটে ১৮ টি আসন জয়ের জন্য প্রকাশ্যে কৃতিত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন অমিত শাহ, বিধানসভা ভোটের সময় তিনি প্যাভেলিয়নে থেকে যাবেন, তা হতে পারে না। বরং তাঁর হাতে ব্যাট তো থাকবেই। সেই সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও ভরপুর। ফলে মুকুলবাবু কেন্দ্রীয় সংগঠনে পদ পাবেন, নাকি প্রাক্তন রেলমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় সামিল করা হবে সেই চমকের অপেক্ষা থাকছে।
বস্তুত নরেন্দ্র মোদীর তুলনায় দিল্লির রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতা যেমন বেশি, তেমনই বিজেপির অনেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংগঠনিক পদাধিকারীর তুলনায় অনেক আগে থেকে মুকুলবাবু দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয়। অমিত শাহ, পীযূষ গোয়েল, নির্মলা সীতারমনরা দিল্লির রাজনীতিতে হাত পাকানোর অনেক আগেই সে ব্যাপারে তিনি পোড় খাওয়া। তা ছাড়া কেন্দ্রে জাহাজ প্রতি মন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।
বিজেপি সূত্রের মতে, শুধু যে মুকুলবাবুর উত্তরণেই ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ থাকবে, তা হয়তো নয়। বাংলা থেকে আরও এক তরুণ নেতাকে কেন্দ্রে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। বাইরে থেকে যাঁরা বিজেপিতে এসেছেন তাঁদের মধ্যে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক এখনও পর্যন্ত কোনও সাংগঠনিক পদ বা তেমন কিছু পাননি। সৌমিত্র খাঁ যুব সভাপতি হয়েছেন, কিন্তু তেমন কিছু হননি নিশীথ। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ তথা আদিবাসী নেতা জন বার্লার স্থানীয় রাজনীতিতে দাপট রয়েছে। সূত্রের মতে, দিলীপ ঘোষ শিবিরের সমর্থন জন বার্লার দিকে ভারী। কিন্তু দিল্লির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নিশীথ তুলনায় অনেক কার্যকরী হতে পারেন। তাঁর বয়স কম। লোকসভা ভোটে এ বার তাঁর লড়াইও ছিল জন বার্লার তুলনায় অনেক কঠিন। তা ছাড়া তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাও জন বার্লার তুলনায় বেশি। বড় কথা হল, নিশীথ রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি। উত্তরবঙ্গে রাজবংশীদের বড় ভোট রয়েছে। ফলে একুশের ভোটের আগে রাজবংশী কোনও নেতাকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করা হলে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা যেতে পারে উত্তরবঙ্গে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী জমানার প্রথম মেয়াদে এ ভাবে মন্ত্রী হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। ভোটের ঠিক আগে তিনি বিজেপিতে সামিল হয়েছিলেন। তার পর আসানসোলে জিতে সাংসদ হতেই মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদলে তাঁকে ক্যাবিনেটে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।