দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছিলেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে তাঁদের মক্কেল জঙ্গলমহল থেকে কলকাতায় ছুটে আসতে পারবেন না। কিন্তু ১১ বছরের পুরনো জোড়া মামলায় তাঁকে জেরা করতে মরিয়া এনআইএ কলকাতা হাইকোর্টকে জানায়, প্রয়োজনে তাঁরা গিয়ে জঙ্গলমহলে ক্যাম্প করে জেরা করতে পারেন।
শুক্রবার শালবনীর কোবরা ২ নম্বর ক্যাম্পে তিন জন উচ্চপদস্থ এনআইএ গোয়েন্দা টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করলেন ছত্রধর মাহাতোকে। কলকাতায় যখন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের ভার্চুয়াল সভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন, ওদিকে তখন শাল-মহুয়ার জনপদে জেরা চলছে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য ছত্রধর মাহাতোর।
বাঁশপাহাড়িতে রাজধানী এক্সপ্রেসকে পণবন্দি করা ও ঝাড়গ্রামের সিপিএম নেতা দীপক মাহাতো খুনের মামলায় তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। এদিন ছত্রধর জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ন’টায় ফের তাঁকে জেরার জন্য ডেকেছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা।
আইনের প্রতি আস্থা রয়েছে জানিয়েও, এই জেরার পিছনে অবশ্য ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন একদা পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা। তিনি জানিয়েছেন, “আমি গোয়েন্দাদের বলেছি, তাঁরা যে দুটি মামলায় আমায় জেরা করছেন, সে ব্যাপারে আমি অবগত নই।” ছত্রধর আরও বলেন, “আমি গোয়েন্দাদের এও বলেছি, তাঁদের আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। তবে ১১ বছরের পুরনো মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে তদন্তের পিছনে অন্য ব্যাপার রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
একদা জঙ্গলমহলের অবিসংবাদী নেতাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, আপনি কি মনে করেন যে, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই নতুন করে এই তৎপরতা? ছত্রধরের ছোট্ট জবাব, “মনে তো হচ্ছে তা-ই!”
এনআইএ তদন্ত খারিজের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ছত্রধর। বিচারপতি দেবাংশু বসাক গত ১৮ অগস্ট এনআইএ তদন্ত খারিজ করেননি। আবার আদালত ছত্রধরের আবেদনও খারিজ করেনি। সেপ্টেম্বরে ফের একটি দিন ধার্য করেছে আদালত। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই দুটি মামলায় এনআইকে তদন্ত ভার দেয়। সেই সময়ে সবে মাত্র জেল থেকে মুক্ত হয়ে লালগড়ে পা রেখেছিলেন ছত্রধর।
গত লোকসভায় জঙ্গলমহলে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। অনেকের মতে, হারানো জমি ফিরে পেতে তাই ছত্রধরেই ভরসা রেখেছে কালীঘাট। তাই একেবারে রাজ্য কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এখন দেখার এই দুই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি কত দূর তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়।