দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবাক কাণ্ড! উচ্চমাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পরে দেখা গিয়েছিল ২৩৮ নম্বর পেয়েছেন এক ছাত্রী। এই নম্বর নিয়ে তাঁর অসন্তোষ ছিলই। রিভিউ করার পরে দেখা গেল এক ধাক্কায় ১০৮ নম্বর বেড়ে গেছে। অর্থাৎ ছিল ২৩৮, হল ৩৪৬।
রিভিউতে এত নম্বর বাড়ার ঘটনা এই প্রথম। উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এতদিন বিতর্ক, সমালোচনা চলছিলই। এই ঘটনার পরে পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির খামতিগুলো ফের সামনে চলে এল। মূল্যায়নের ফর্মুলার মধ্যেই যে কত গড়বড় রয়েছে তা এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। রিভিউতে নম্বর বাড়লেও তা ১০,২০ বা বেশি হলেও ৫০-৬০ নম্বর অবধি বাড়তে দেখা গেছে। কিন্তু এক ঝটকায় ১০৮ নম্বর বেড়ে যাওয়া, সত্যিই বেনজির ঘটনা।
উচ্চমাধ্যমিকে ফলাফল নিয়ে রাজ্য জুড়ে কার্যত ঝড় বয়ে গেছে। স্কুলে স্কুলে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ-ভাঙচুর, ছাত্রছাত্রীদের কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। জেলায় জেলায় তাণ্ডব চলেছে। উচ্চশিক্ষা সংসদের গাফিলতির দিকে বারে বারেই আঙুল উঠেছে। এই বিক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যার জেরে সকলকেই পাস করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সে নিয়েও সমালোচনা কিছু কম হয়নি। তার জন্যই ফের ছাত্রছাত্রীদের নম্বর খতিয়ে দেখার জন্য রিভিউ করানো হয়। আর সেখানেই এই কাণ্ড ঘটে।
কেষ্টপুরের দেশপ্রিয় বালিকা বিদ্যামন্দিরের ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, শুক্রবার নতুন মার্কশিট পাওয়ার পরেই তাঁর চোখ কপালে ওঠে। এত কম নম্বর তিনি পেতে পারেন না এটা জানতেনই, এখন যে নম্বর তিনি পেয়েছেন সেটাই তাঁর আসল প্রাপ্ত নম্বর।
করোনার জেরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরে তার মূল্যায়ন কীভাবে হবে সে নিয়ে একটি জটিল ফর্মুলা সামনে আনে সংসদ। বলা হয়, তিনটি ধাপে নম্বর যোগ করে ছাত্রছাত্রীদের মোট নম্বরের হিসেব করা হবে। মাধ্যমিকের চারটি বিষয়ে পাওয়া মোট নম্বর, একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় থিওরিতে পাওয়া নম্বর এবং দ্বাদশের প্র্যাকটিকাল পরীক্ষায় বা প্রোজেক্টে পাওয়া মোট নম্বর--এই তিন ক্যাটাগরির নম্বর একসঙ্গে যোগ করে তবে মোট নম্বর ধার্য করা হবে। এই ফর্মুলাতে ফেলে মূল্যায়নের পরে যে ফল সামনে আসে সে নিয়েই ঝামেলা শুরু হয়। কারণ দেখা যায়, বহু ছাত্রছাত্রী পাস করতেই পারেননি। অনেকে আবার যোগ্যতার থেকে অনেক কম নম্বর পেয়েছেন। শিক্ষাবিদদের অনেকে বলছেন, এই ঘটনা ফের দেখিয়ে দিল সংসদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতেই গলদ রয়েছে।