দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিঘি জামাতের ‘মরকজ’ অনুষ্ঠানে যাঁরা যোগ দিয়ে বাংলায় ফিরেছিলেন তাঁদের যথাসম্ভব চিহ্নিত করে কলকাতার হজ হাউজে রাখা হয়েছিল। সেই সঙ্গে সম্ভবত রাজারহাটেও তাঁদের কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল (সম্ভবত বলা হচ্ছে এই কারণেই যে কোথায় কত জন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি)। চোদ্দ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর এ বার তাঁদের বাড়ি ফেরানো শুরু হল।
সূত্রের খবর, সরকারি বাসে চাপিয়ে এঁদের একাংশকে গত কাল রাত থেকে বাড়ি পাঠানো শুরু হয়েছে। একশ জনের বেশি লোককে গতকাল বাড়ি পাঠানো হয়েছে বলেই সরকারি সূত্রে খবর। তবে তা নবান্নের তরফে এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। সরকারের এক কর্তা বলেন, পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে, ফলে কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর যাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি, তাঁরা বাড়ি ফিরছেন এটা ইতিবাচক তো বটেই। তা ছাড়া যে হেতু লকডাউন চলছে, তাই তাঁরা বাড়িতেই থাকবেন আরও কিছু দিন।
তবলিঘি জামাত ফেরত হলদিয়া বন্দরের এক কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সঙ্গে হলদিয়ায় আরও দু’জন নিজামুদ্দিন ফেরতের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। তবে নবান্ন শুধু বন্দর কর্মীর কথা জানিয়েছিল। নিজামুদ্দিন ফেরত বাকি আর কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা, কত জনের শরীরে উপসর্গ দেখা গিয়েছে বা আদৌ কারও শরীরে উপসর্গ দেখা গিয়েছে কিনা, কিংবা কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন কতজনের নমুনা টেস্ট করা হয়েছে তাও রাজ্য সরকার জানায়নি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু জানিয়েছিলেন, ১৭৯ জনকে হজ হাউসের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১০১ জন বিদেশি রয়েছেন বলেন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এখন এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আন্তঃমন্ত্রক টিম গতকাল শনিবার মুখ্য সচিব রাজীব সিনহাকে চিঠি দিয়ে কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে। কলকাতায় আসা কেন্দ্রীয় টিমের প্রধান অপূর্ব চন্দ্র মুখ্য সচিবকে চিঠি লিখে বলেছেন, নিজামুদ্দিনের মরকজ অনুষ্ঠান থেকে যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছিলেন তাঁদের ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে তথ্য দিয়েছিল কেন্দ্র। তাঁদের মধ্যে, কত জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে, কত জনের টেস্ট হয়েছে, কনট্যাক্ট ট্রেসিং কীভাবে হয়েছে তা যেন কেন্দ্রীয় টিমকে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় টিমের সেই প্রশ্নের জবাব এখনও নবান্ন দেয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মতে, নিজামুদ্দিনের মরকজ অনুষ্ঠান থেকে যাঁরা বাংলায় ফিরেছিলেন তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা ও টেস্ট করা এবং প্রয়োজনে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করা সংক্রমণ মোকাবিলার জন্যই জরুরি। যাতে আদৌ যদি কেউ সংক্রামিত হয়ে থাকেন তা হলে তাঁদের থেকে তা তাঁদের পরিবার, পরিজন, বন্ধুদের মধ্যে না ছড়ায়। কিন্তু এও দেখা গিয়েছে, কিছু লোক এই বিষয়টি নিয়েও বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তা যারপরনাই নিন্দনীয়। বড় কথা হল, এই সংকটের মোকাবিলার জন্য সমাজে পারস্পরিক সদ্ভাব রেখে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস জরুরি। কাউকে বিচ্ছিন্ন করে বা আঘাত হেনে সংক্রমণ মোকাবিলা করতে গেলে তা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার সরকারেরও উচিত এ ব্যাপারে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখা। নইলে বিভ্রান্তি বাড়বে বই কমবে না।