দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল নবান্নের উঠোনে। সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পরে ও মঞ্চ থেকেই পতাকা নেড়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকার জন্য ত্রাণ সামগ্রী যাত্রার সূচনা করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী এলেন। কিন্তু পতাকা নাড়লেন না। দৃশ্যতই বিরক্ত! তার আগেই কিছু একটা হয়ে গিয়েছে ওই মঞ্চের উপরে!
মঞ্চে ওঠার পরই মুখ্যমন্ত্রীকে একটি কাগজ হাতে নিতে দেখা যায়। সেটা নেওয়ার পরই দূর থেকে দেখা যায় তাঁর পিছনে বসে থাকা কৃষি-উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদারকে কিছু একটা বলছেন তিনি। মঞ্চ থেকে সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দ জায়গা বেশ কিছুটা দূরে। তাই কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী তা শোনা না গেলেও তাঁর অভিব্যক্তি দেখে এটা ঠাওর করা যায়, প্রদীপবাবুর উপর রেগে গিয়েছেন মমতা! এরপরই নবান্নের অলিন্দে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, কী এমন হল যার জন্য পতাকা নাড়লেন না মুখ্যমন্ত্রী!
সূত্রের খবর, বুলবুলের জন্য কৃষিক্ষেত্রে কত ক্ষতি হয়েছে তার একটা সার্বিক পরিসংখ্যান তৈরি করতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কাগজ হাতে নিয়ে দেখেন, সেটা এখনও আংশিক হয়েই পড়ে রয়েছে। এরপরই নাকি প্রদীপবাবুর উপর চটে যান মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, প্রদীপবাবুর উদ্দেশে মমতা বলেছেন, কী করেন! এতদিন হয়ে গেল এখনও হিসেব পুরো করতে পারলেন না!
সেই কাকদ্বীপ এবং বসিরহাটের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে কৃষি-উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র কী তা হিসেব করার। আকাশপথে মুখ্যমন্ত্রী বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে কৃষিজমি দেখে বলেছিলেন, “সব শেষ হয়ে গেছে!” দুই চব্বিশ পরগনার প্রশাসনিক বৈঠক প্রায় দু’সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পরিসংখ্যান না তৈরি হওয়ায় রেগে যান মুখ্যমন্ত্রী।
দেখা যায় এক সরকারি আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পতাকা দিতে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী তা ইশারায় রেখে দিতে বলেন। এরপর এক এক করে ত্রাণ সামগ্রী বোঝাই গাড়িগুলি রওনা দেয় দুই চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের দিকে।