দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে টিকাকরণ শুরু হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের মোট ৩৫৩টি কেন্দ্রে আজ প্রথম ধাপে টিকাকরণ হবে। প্রতি কেন্দ্রে ১০০ জন করে স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে। জেলায় জেলায় সকাল থেকেই টিকাকরণ শিবিরগুলিতে সাজো সাজো রব। প্রতি শিবিরে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জেলা আধিকারিক, টিকা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা হাজির হয়ে গেছেন। রয়েছেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও। ঝাড়গ্রামে এদিন প্রথম টিকার ডোজ নিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা।
ঝাড়গ্রামে আজ চারটি শিবির তথা টিকাকরণ কেন্দ্রে ডোজ দেওয়া হবে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশবাবু বলেছেন, টিকা নিয়ে এখনও ভয় আছে অনেকের মনে। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে কিনা সে নিয়ে চিন্তা আছে জনমানসে। সেই ভয় কাটাতে প্রথম টিকার ইঞ্জেকশন নিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই পাঁচ জন ডাক্তার, একজন নার্স, একজন অফিস কর্মী, একজন গাড়ির চালক ও স্বাস্থ্য দফতরের দু’জন কর্মী টিকার ডোজ নিয়েছেন।
গতকাল থেকেই জেলার ভ্যাকসিন ক্যাম্পগুলিতে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছিল। জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, যে চারটি শিবির হয়েছে সেখানে ১০০ জন করে মোট ৪০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। বাংলায় এখনও অবধি পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনই এসে পৌঁছেছে। তাই কোভিশিল্ড টিকার ডোজই দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের।
ঝাড়গ্রাম নার্সিং ট্রেনিং স্কুল, এসিএমওএইচ মিটিং হল, চিল্কিগড় গ্রামীণ হাসপাতাল এবং গোপীবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে টিকার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, টিকা দেওয়ার জন্য এতদিন যে নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, সেই মাফিকই টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া চলছে।
রাজ্যে ২১২টি কেন্দ্রে মোট ৬ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে। প্রতি কেন্দ্রে ১০০ জন করে স্বাস্থ্যকর্মীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। টিকাকরণের তত্ত্বাবধানের জন্য থাকবেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জেলা আধিকারিক, মেডিক্যাল অফিসাররা। আজ বেলা ১টায় নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাকরণ শিবিরগুলিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে। টিকা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে ৩৫-৩৬ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হতে পারে।