দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রথম জমানায় তবু রাজ্যসভায় একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ পেয়েছিল তৃণমূল। রাজ্যসভায় তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ছিলেন সংসদের পরিবহণ ও সংস্কৃতি মন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। কিন্তু এখন তাও রইল না। রাজ্যসভার কোনও স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের পদ পেল না তৃণমূল কংগ্রেস। পরিবহণ ও সংস্কৃতি মন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অন্ধ্র থেকে বিজেপি-র রাজ্যসভা সাংসদ জি ভেঙ্কটেশকে।
শুক্রবার প্রায় মাঝ রাতে সংসদের দুই সভার নব গঠিত সব স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল থেকে একমাত্র দলের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রক সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, রাজ্যসভায় তৃণমূলের তুলনায় সদস্য কম হলেও জগন্মোহনের ওয়াইএসআর কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং তেলঙ্গনা রাষ্ট্রীয় সমিতির প্রতিনিধিরাও স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছেন। সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদ রয়েছে। জগন্মোহনের দলের রয়েছে দু’জন সদস্য, টিআরএসের ৬ জন এবং সপা-র ৯ জন।
সংসদীয় গণতন্ত্রে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের গুরুত্ব কম নয়। এই পদের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। স্ট্যান্ডিং কমিটি যে প্রয়োজনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবদের ডেকে কৈফিয়ত চাইতে বা প্রশ্ন করতে পারেন সাম্প্রতিক কালে তার ভুরি ভুরি নমুনা দেখা গিয়েছে। মোদ্দা কথায়, এই পদের গরিমা রয়েছে সংসদীয় রাজনীতিতে।
সপ্তদশ লোকসভা গঠন হওয়ার পর সংসদের দুই কক্ষে পুরনো স্ট্যান্ডিং কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের দফতর এই কমিটি ঘোষণা করে। শনিবার সকালে নতুন কমিটির কথা জানতে পেরেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদে সাবেক জাতীয় দল তা বৃহত্তম বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব কিন্তু ভালমতোই রয়েছে। যেমন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মাকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে জয়রাম রমেশকে। আবার শশী তারুরকে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য দলীয় তরফে এখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ঘরোয়া আলোচনায় তাঁরা বলছেন, সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়েও সংকীর্ণ রাজনীতি করছে বিজেপি। একদিকে তৃণমূলের জাতীয় দলের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে নোটিশ দেওয়া হয়েছে দলকে। সেই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ দেওয়া নিয়েও রাজনীতি করা হল। সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হল তৃণমূল। রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদ রয়েছে। অথচ যে ভাবে একটাও স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ তৃণমূলকে দেওয়া হল না তা হতাশাজনক।
তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, সংসদের গত মেয়াদে তিনটি স্ট্যান্ডিং কমিটি সরকারের কাজের পর্যালোচনায় সব থেকে সক্রিয় ছিল। বিদেশ মন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি ডোকালাম প্রশ্নে সরকারে বিপাকে ফেলেছিল, একই ভাবে পরিবহণ, পর্যটন মন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আবার অর্থমন্ত্রক সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বিলগ্লিকরণ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিল। ওই তিন কমিটির চেয়ারম্যানই বদলে দেওয়া হয়েছে।