দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন উপলক্ষে বেলুড় মঠে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে পাকিস্তানকে দুষলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, এই নাগরিকত্ব আইনের ফলেই দুনিয়ার সামনে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে গিয়েছে। গোটা দুনিয়া বুঝতে পেরেছে সংখ্যালঘুদের উপর কী পরিমাণ নির্যাতন হয় পাকিস্তানে।
বেলুড় মঠের মঞ্চ থেকে মোদী নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, এই আইন সম্পর্কে কিছু রাজনৈতিক দল যুব সম্প্রদায়কে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানে দেশভাগের পর থেকে হিন্দুরা যে অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছে, সেই হিন্দুদের সুরক্ষা দিতেই নাগরিকত্ব আইনে এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মোদী। তারপরেই পাকিস্তানকে সরাসরি তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী বলেন, "দেশের যুব সম্প্রদায় বর্তমানে সব বুঝতে পারছেন। তাঁরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন। এই নাগরিকত্ব আইন না নিয়ে এলে পাকিস্তানের মুখোশ খুলত না। গোটা দুনিয়া জানতে পারত না সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর কী পরিমাণ অত্যাচার হচ্ছে। আমরা কি সেই অত্যাচার চলতে দিতে পারি। হিন্দুদের সেখানে মরতে দিতে পারি। সেজন্যই তো এই আইন আনা হয়েছে। অন্যান্য দেশের যে মানুষরা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করেন, ভারতের অখণ্ডতার কথা মানেন, তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।"
নাগরিকত্ব আইনের প্রসঙ্গে মোদীর পাকিস্তান বিরোধিতা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও অনেকবার তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্যই এই আইন করা হয়েছে। শুধু মোদী নন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই সুরে কথা বলেছেন।
মোদীর এই পাকিস্তান বিরোধিতাকে হাতিয়ার করে তাঁর বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছে বিরোধী দলগুলো। এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভের মাঝে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মোদীর পাকিস্তান বিরোধিতার কথা তুলে ধরেন। মমতা বলেন, "যাই জিজ্ঞাসা করছি, বলছে পাকিস্তান চলে যাও। বলছি চাকরি কই, খাবার কই, নাগরিকত্ব কই, বলছে পাকিস্তান চলে যাও। পাকিস্তান কেন যাব? হিন্দুস্থান আমাদের দেশ। আমরা হিন্দুস্থান নিয়ে কথা বলব। উনি ( পড়ুন মোদী ) কি পাকিস্তানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর?"
বিরোধীরা যতই সুর চড়ান, ফের নিজের বক্তব্যে পাকিস্তানকেই টেনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী।