দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্ণব রায় কোথায়?
তিন দিন। ৭২ ঘণ্টা হতে চলল। রবিবার দুপুর পর্যন্ত খোঁজ মিলল না নদিয়ার কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের নোডাল অফিসার অর্ণব রায়ের। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের ভিভিপ্যাটের দায়িত্বে ছিলেন তরুণ এই ডব্লিউবিসিএস অফিসার।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। গিয়েছিলেন অফিসেও। দুপুরে কৃষ্ণনগর গভর্মেন্ট কলেজেও ছিলেন ভোটের কাজের জন্য। কিন্তু তারপর থেকে রহস্যজনকভাবেই উধাও হয়ে যান। যত সময় এগোচ্ছে, ততই গাঢ় হচ্ছে রহস্য। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবারের উদ্বেগও।
অর্ণবের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে যত সময় গড়িয়েছে, ততই নানান কথা উঠে আসতে থাকে নানান মহল থেকে। কেউ এর পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণ রয়েছে বলে মনে করেছেন, কেউ আবার বলেছেন অর্ণব মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কিন্তু অর্ণবের স্ত্রী অনিশা যশ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট এবং সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী মানসিক অবসাদগ্রস্থ ছিলেন না।
অনিশার সঙ্গে বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়েছিল অর্ণবের। অনিশা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছ'বার ফোনে কথা হয়েছিল দু'জনের। কিন্তু কোথা থেকে কী হল অনিশা-সহ পরিবারের কেউই প্রায় বুঝতে পারছেন না। নদিয়ার জেলা শাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন অনিশা। কিন্তু খোঁজ নেই স্বামীর। ফোন বন্ধ।
রাজনৈতিক মহলের অনেকেই এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলার করুণ দশাকেই দায়ী করছেন। প্রসঙ্গত, শনিবারই রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, বাংলার এখনকার অবস্থা ১০-১৫ বছর আগেকার বিহারের মতো। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। তৃণমূল নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে অজয় নায়েকের অপসারণ দাবি করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই রাজনৈতিক চাপান উতরের বাদ দিলেও এটা সত্যি যে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা রাজ্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার ৭২ ঘণ্টা নিখোঁজ।
পঞ্চায়েত ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসার নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল। তারপর রাজকুমার রায়ের দেহ মিলেছিল রেল লাইনের ধারে। লোকসভা ভোটে নিখোঁজ নোডাল অফিসার।