
শেষ আপডেট: 14 February 2020 12:23
সকাল থেকে বার বার ঘুরেফিরে ছেলের ছবির সামনে আসছিলেন মমতা বিশ্বাস। গত একটা বছর জীবনের অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। জলজ্যান্ত ছেলেটা আর আসবে না কোনও দিন, ডাকবে না ‘মা’ বলে। গ্রামের মানুষের কাছে, দেশের মানুষের কাছে দেশমাতৃকার বীরসন্তান সুদীপ বিশ্বাস। কিন্তু মমতাদেবীর কাছে তিনি তো শুধুই সন্তান!
তাঁর তিনটি আবক্ষ মূর্তি বসেছে গ্রামে। ফাইবারের মূর্তি তিনটি বড় জীবন্ত। মূর্তি তৈরি করেছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী সুবীর পাল। ফাইবার গ্লাসের মূর্তিতে খুঁত একটাই, সেটা নিষ্প্রাণ। তাই তিন তিনটি মূর্তি পুত্রশোক ভোলাতে পারছে না মমতাদেবীর।
পুলওয়ামায় শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘোষণার পরের দিনই বাড়িতে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে এখনও সেই চাকরি জোটেনি। শহিদের বোন ঝুমা একথা জানিয়েছেন। শহিদ সুদীপের বাড়িতে রয়েছেন বাবা সন্ন্যাসী বিশ্বাস, মা মমতা ও বোন ঝুমা।
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের পরিবার। ব্যক্তিগত সাহায্য পেয়েছেন অনেকের থেকে। তাতে বাড়িঘরের কিছুটা উন্নতিও হয়েছে। তবে সেসব তো আর রোজ রোজ পাওয়া যায় না। তাই পরিবারের একজনের চাকরি নিতান্তই দরকার।