দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ৫৩৪তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন উপলক্ষে নদিয়ার মায়াপুরে ইসকন মন্দিরে শুরু হল এক মাস ব্যাপী উৎসব। আজ শুরু হয়েছে মণ্ডল পরিক্রমা, চলবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। দোলপূর্ণিমাতে হবে প্রধান উৎসব।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি উপলক্ষে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়েছে মায়াপুরে। সাতটি বিভাগে ভাগ হয়ে হাজার হাজার ভক্ত ন’টি দ্বীপ পরিক্রমা করবেন। গৌরমণ্ডলের অন্তর্গত এই ন’টি দ্বীপ হল: সীমন্তদ্বীপ হয়, গোদ্রুমদ্বীপ, শ্রীমধ্যদ্বীপ, কোলদ্বীপ, ঋতুদ্বীপ, জহ্নুদ্বীপ, মোদদ্রুমদ্বীপ, রুদ্রদ্বীপ ও অন্তর্দ্বীপ। এইসব দ্বীপেই রাত্রিবাস করবেন ভক্তরা।
সকাল থেকে নামসংকীর্তন করতে করতে এই সব দ্বীপ পরিক্রমা করতে শুরু করেছেন ভক্তরা। নবদ্বীপের এই ন’টি দ্বীপ পরিক্রমা করতে সব মিলিয়ে বাহাত্তর কিলোমিটার হাঁটতে হবে ভক্তদের। অনেকে যেমন হেঁটে পরিক্রমা করছেন তেমনই অনেকে ভাগীরথী ও জলঙ্গীর নদীপথে নবদ্বীপ পরিক্রমা করছেন হরিনাম সংকীর্তন করতে করতে। আন্তর্জাতিক মায়াপুর ইসকন চন্দ্রোদয় মন্দির থেকে আজ ভোরে শুরু হয়েছে এই পরিক্রমা।
এই ক’দিন বিভিন্ন দ্বীপে দিনরাত হরিনাম সংকীর্তনের পাশাপাশি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনী থেকে অংশ পাঠ করা হবে, তাঁর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করা হবে।
রাশিয়া, আমেরিকা, চিন, মায়ানমার, বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের শ’খানেক দেশ থেকে ভক্তরা একত্রিত হয়েছেন মায়াপুরে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও ভক্তরা এসেছেন এই উৎসবে যোগ দিতে। দেশবিদেশের এত ভক্ত আসায় এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
এই মেলা দোলের মেলা নামে পরিচিত। মেলা উপলক্ষে মন্দির থেকে কুপনের বিনিময়ে ভোগ পাওয়া যাবে। মোট তিরিশ থেকে চল্লিশ রকম ভোগের ব্যবস্থা থাকে, তবে ভক্তরা বেশির ভাগই খিচুড়ি ভোগ নেন। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে, সব রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে ভোগ রান্না ও বিতরণ করা হয়। মন্দিরের বাইরে যেখানে মেলা বসে সেখানে নানা ধরনের মুখরোচক খাবার পাওয়া যায়। এখানে বহু পর্যটক আসেন দোলের সময়, সকলেই যে নিরামিষ খান বা প্রসাদ খান এমন নয়। তাই এই সব খাবারের আয়োজন।
আর পাঁচটা মেলায় যা পাওয়া যায় এখানের মেলায় সেসব তো পাওয়া যায়ই তাছাড়াও খোল, করতাল, খঞ্জনি প্রভৃতিও কিনতে পাওয়া যায়। অনেকে ইসকন থেকে সংগ্রহ করেন পুজোর নানা উপকরণ। মেলায় কয়েক লক্ষ লোক আসেন, অন্তত ৫০০ জন ব্যবসায়ী এখানে থাকেন এই সময়টিতে।