দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকারের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে ব্যাপারে ইতি টানতে অবশেষে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিল নবান্ন। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য, মর্গে কিছু পচাগলা বেওয়ারিশ লাশ পড়ে ছিল। মূলত দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছিল। ওই মরদেহগুলি সৎকারের বন্দোবস্ত করছিল একটি এজেন্সি। এবং সেই সময়ে যা ঘটেছে তা একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা। কিন্তু সে ঘটনা নিয়েই মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ বর্তমান মহামারী পরিস্থিতির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত বুধবার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মৃতদেহ হুক দিয়ে টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তোলা হচ্ছে। ওই ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় নবান্নের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠান। পরে রাজ্যপালই জানান, নবান্ন কার্যত গাফিলতি স্বীকার করেছে। পর রাজ্যপাল এও বলেন, মরদেহগুলি কোভিড রোগীর কিনা প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু আমার বক্তব্য, যাঁরা ওভাবে মৃতদেহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছেন, তাঁদের কাছে আমার মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে। নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন, আপনার কাছের কারও সঙ্গে এমন হলে কেমন লাগত আপনার! তাঁর কথায়, আমাদের দেশে মৃতদেহ সৎকারের মাধ্যমে মানুষকে শেষ শ্রদ্ধা দেখানো হয়। কিন্তু যে দৃশ্য দেখা গিয়েছে তা শিউড়ে ওঠার মতো ঘটনা।
https://twitter.com/HomeBengal/status/1271718062312419333?s=20
এ ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বা তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে ভালমতই আঁচ করতে পারেন শাসক দলের অনেক নেতা। তৃণমূলের কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহজ ও সরাসরি প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রী নই।
কিন্তু শাসক দলের নেতারা এড়িয়ে গেলে কী হবে, রাজ্যপাল জেদ ধরে বসেছেন, তিনি এর শেষ পর্যন্ত দেখতে চান। এমনকী রাজ্যপাল এও অভিযোগ করেছেন, যে বা যাঁরা ওই ভি়ডিও তৈরি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি সক্রিয় হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ একটি পুলিশ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
সার্বিক এই পরিস্থিতিতে ঘটনার ৭২ ঘন্টা পর অবশেষে শনিবার মুখ খুলেছে নবান্ন। তবে কোনও প্রশ্নের জবাব নবান্নের কেউ দেননি। টুইট করে বিবৃতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তাতে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল সে ব্যাপারে রাজ্যপালকে জানিয়েছেন সিনিয়ার অফিসাররা। কিন্তু তার পরেও এ ঘটনাকে মহামারী পরিস্থিতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে তা সমাজ-মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার মনোবলও ভেঙে দিচ্ছে। তা ছাড়া সামনের সারিতে স্বাস্থ্য কর্মীদের খাটো করছে। রাজ্য সরকার এই মিথ্যা ভাষণকে নিন্দা করছে।