দ্য ওয়াল ব্যুরো: দফতরের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মীর করোনা ধরা পড়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসকের অফিস। এদিন সকাল থেকেই অফিসটি তালাবন্দি দেখা যায়। পরে জেলাশাসক নিখিল নির্মল ফোনে জানান যে তিনি বালুরঘাটের সার্কিট হাউস থেকে দফতরের কাজ করছেন। প্রশাসনিক কাজকর্ম যাতে বন্ধ না হয়ে যায় সে কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।
এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবন স্যানিটাইজ করা হয়। সোমবারই বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় জেলাশাসকের দফতরে। সোমবার ও মঙ্গলবার চলে স্যানিটাইজেশনের কাজ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জেলাশাসক নিখিল নির্মল বলেন, “অফিসের এক কর্মী করোনা পজিটিভ হওয়ায় অফিস স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। সোমবার এবং আজ (মঙ্গলবার) দফতর-সহ প্রশাসনিক ভবন স্যানিটাইজ করার পরে আগামী কাল থেকে আবার অফিস চালু হবে কালেক্টরেটে।” বর্তমানে সার্কিট হাউস থেকে তিনি জেলার সরকারি কাজকর্ম করছেন।
রবিবার রাতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজের ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল) থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের আরও নয় জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে ১৮ জুলাই আক্রান্তদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছিল। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বালুরঘাট শহরের চকভবানী ঘোষপাড়া, মঙ্গলপুর, উত্তমাশা, শান্তি কলোনি ও লালমাটা এলাকার মোট পাঁচ জন। বালুরঘাট গ্রামীণ এলাকার পতিরাম, ফরিদপুর ও কালিকাপুরের এক জন করে ব্যক্তির করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এছাড়া বুনিয়াদপুরে এক জন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনারও রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নতুন করে আরও ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
সরকারি হিসাবে নতুন করে সংক্রামিতদের নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০২। যদিও আক্রান্তদের মধ্যে ৩৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে চার জনের। বর্তমানে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৪৬৮।
রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলায় ও গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হওয়ায় তা রুখতে সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সপ্তাহে বৃহস্পতিবার থেকেই তা শুরু হতে চলেছে। সেই লকডাউনের নিয়মও জানিয়েছে সরকার। তবে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন এলাকাগুলিতে লকডাউন চলছে। বালুরঘাটের একাধিক ওয়ার্ডে তা কার্যকর করা হয়েছে।