চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টের রহস্যজনক অপহরণ, শিলিগুড়ি থেকে জাল ছড়িয়েছিল আরও তিন রাজ্যে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিলিগুড়ি থেকে রহস্যজনক ভাবে অপহৃত হয়েছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কিষণকুমার আগরওয়াল। বারবার জায়গা বদল করে পুলিশকে বিভ্রান্তও করেছিল অপহরণকারীরা। তবে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে চার দুষ্কৃতী।
গত ৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছি
শেষ আপডেট: 13 January 2020 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিলিগুড়ি থেকে রহস্যজনক ভাবে অপহৃত হয়েছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট কিষণকুমার আগরওয়াল। বারবার জায়গা বদল করে পুলিশকে বিভ্রান্তও করেছিল অপহরণকারীরা। তবে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে চার দুষ্কৃতী।
গত ৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই ব্যক্তি। বহুক্ষণ বাড়ির কর্তার কোনও খবর না পেয়ে থানায় খবর দেয় কিষণকুমারের পরিবার। তাঁর স্ত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর মোট টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে অপহৃত চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টের বাড়িতে। কিষণকুমার যাতে সুস্থ ভাবে ফিরে আসেন তাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরেও অপহরণকারীদের হাতে মুক্তিপণ তুলে দেয় ওই ব্যক্তির পরিবার।
৫ কোটি টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল অপহরণকারীরা। তবে এত টাকা জোগাড় করতে পারেনি ওই পরিবার। তাই প্রাথমিক ভাবে জোগাড় হওয়া ৫০ লক্ষ টাকাতেই রফা সেরে নেয় দুষ্কৃতীরা। শনিবার বাড়ি ফিরে আসেন কিষণকুমার। কিন্তু পুলিশের তদন্ত জারি ছিল। তল্লাশি চালিয়ে বিহারের মজফফরপুর থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও রবীন ওরাও নামে দু'জনের বাড়ি অসমের তিনসুকিয়াতে। আর এক অপহরণকারী ফৈয়জ আহমেদের বাড়ি বিহারের গোপালগঞ্জে। রণজিৎ ঘিমির নামে আর একজনের বাড়ি শিলিগুড়ির অদূরে সুকনায়। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ এএকটি গাড়ি, ১০টি মোবাইল ফোন, অনেক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। আপাতত বিহার পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে এই চারজন।
কিষণকুমারের অপহরণের পর মুক্তিপণ চেয়ে প্রথমবার তাঁর পরিবারের কাছে ফোন আসে উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর থেকে। লোকেশন ট্রেস করে পুলিশ জানতে পেরেছে এই জায়গা থেকে মোট তিনবার ফোন করেছিল অপহরণকারীরা। এরপর বিহারের গোপালগঞ্জ থেকেই দু'বার আসে মুক্তিপণের ফোন। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্ব জানিয়েছেন, পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেই কিষানকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মধ্যে জায়গা বদল করে অপরাধীরা। শেষে কিষনকুমারকে আনা হয় বিহারের মুজফফরপুরের মোতিপুরে।
৭ জানুয়ারি অপহরণের পরের দিন ৮ জানুয়ারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কিষণকুমারের পরিবার। সেদিন থেকেই জরকদমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের উপর নজরদারি রেখে শুরু হয় তল্লাশি। শিলিগুড়ি থেকে পুলিশের একটি দল যায় বিহারে। গোপালগঞ্জ গিয়ে সহায়তা নেওয়া হয় বিহার পুলিশের। এরপর পাকড়াও হয় অপহরণকারীরা। ইতিমধ্যেই ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে মুজফফরপুর জেলার মোতিপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, চার অভিযুক্ত আপাতত বিহার পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে। অভিযুক্তদের শিলিগুড়িতে নিয়ে আসতে একটি দল মঙ্গলবার মোতিপুরে যাবে। ধৃতদের আনতে আরও দু’একদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। শুধু মোটা টাকা মুক্তিপণের লোভ নাকি এই অপহরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অন্য কোনও ঘটনা তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।