দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্যান্য দিনের মতোই স্কুলে গিয়েছিল ৬ বছরের অভিগ্ন গৌতম। আচমকাই বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ কেজি ওয়ানের ওই ছাত্রের স্কুল থেকে ফোন আসে বাড়িতে। বলা হয় অসুস্থ হয়ে পড়েছে অভিগ্ন। ছেলে অসুস্থ শুনে তড়িঘড়ি স্কুলের উদ্দেশে রওনা হন অভিগ্নর বাবা। এর মাঝেই ফের ফোন আসে স্কুল থেকে। বলা হয় মাটিগাড়ার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে অভিগ্নকে। কী হয়েছে ছেলের, তার জ্ঞান আছে কিনা এইসব কথাই বারবার জানতে চান অভিগ্নর বাবা। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও কথা বলেনি বলেই দাবি করেছে অভিগ্নর পরিবার। শেষপর্যন্ত নার্সিংহোমে গিয়ে বাচ্চাটির বাবা জানতে পারেন মারা গিয়েছে তাঁর ছেলে।
বাগডোগরা পুঁটিমারি এলাকার বাসিন্দা ছোট্ট অভিগ্ন। স্থানীয় একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ত সে। আর পাঁচটা দিনের মতোই বুধবারও স্কুলে গিয়েছিল। তাহলে কী এমন হল যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হল শিশুটির! বিভিন্ন মহলে ৬ বছরের অভিগ্নর রহস্যমৃত্যু নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, ঠিক কী হয়েছিল অভিগ্নর সে ব্যাপারে সঠিক কোনও তথ্যই দিচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ। একেক বার একে রকম কথা বলা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশের বক্তব্য স্কুলের বাথরুমে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছিল অভিগ্ন। এরপর প্রথমে তাকে বাগডোগরা হাসপাতালে এবং তারপর মাটিগাড়ার ওই নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য মানতে নারাজ শিশুটির পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, অভিগ্নর সঙ্গে আসলে কী হয়েছিল তা গোপন করে যাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আরও দাবি, বড় কোনও আঘাত না লাগলে বা গুরুতর কোনও চোট না পেলে অভিগ্নর মৃত্যু হতো না। অনেকসময়েই খেলতে খেলতেও বাচ্চারা পড়ে যায়। তাই স্কুলের বাথরুমে পড়ে গিয়ে চোট পেয়ে অভিগ্নর মৃত্যু হয়েছে একথা মানতে নারাজ শিশুটির পরিবার।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছে শিশুটির পরিবার। এমন রহস্যজনক ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রাও। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন এলাকার অন্যান্য স্কুলের শিক্ষকেরাও। প্রসঙ্গত অভিগ্নর বাবা জগন্নাথ গৌতমও স্থানীয় একটি হিন্দি হাই স্কুলের শিক্ষক। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি সুপ্রকাশ রায় বলেন, ‘স্কুলের গাফিলতি রয়েছে এখানে। মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। যদি ওই পড়ুয়া বাথরুমে পড়ে গিয়ে থাকে তাহলে তাকে আয়া, কিংবা মাসি ছাড়া কেন ছাড়া হল? গাফিলতি থাকলে স্কুলের অনুমোদন বন্ধ করে দেওয়া দরকার।’
গার্জিয়ান ফোরাম অফ নর্থবেঙ্গল থেকেও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। ফোরামের সভাপতি সন্দীপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ধরনের মিশনারি স্কুলগুলি টাকা ছাড়া কিছু চেনে না। সন্তানদের পাঠিয়ে ভরসা পাওয়া যায় না। এমন বহু ঘটনা ঘটেছে এই সমস্ত স্কুলে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস স্কুলের চূড়ান্ত গাফিলতিতে এইটুকু শিশুর প্রাণ গেল। এই ঘটনায় আমরা শোকাহত।’ যদিও স্কুলের সিস্টার শেরনী বলেন, ‘টিফিন খেয়ে ও বাথরুমে হাত ধুতে গিয়ে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতাল হয়ে নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গাফিলতির অভিযোগ ঠিক নয়।’
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগডোগরা থানার পুলিশ।