দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: বোমা বাঁধতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের সুতিতে শুক্রবার গভীর রাতে বিস্ফোরণে মৃত্যু হল দুই ব্যক্তির। আহত হয়েছে অন্তত পাঁচ জন। পুলিস সূত্রে জানা গেছে, বোমা বিস্ফোরণে মৃতদের নাম নাম টিটু শেখ ও মাহারুল শেখ। তাদের বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার কমলপুর নিমতিতা এলাকায়।
এলাকা সূত্রে খবর, সুতি থানার আহিরণ পাদুয়া গ্রামের বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২ জনের। গুরুতর আহত পাঁচ জনকে উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সুতি থানার পুলিশ।
যে বাড়ির ভিতরে বোমা বাঁধা হচ্ছিল বিস্ফোরণের তীব্রতায় সেই বাড়িটি ভেঙে যায়। রাতে ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে থাকে ঘটনাস্থলেই। পরে পুলিশ এসে তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়। জানা গেছে স্থানীয় বাসিন্দা তাইজুদ্দিনের বাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও শনিবার সকালে এলাকায় ভিড় জমতে থাকে গ্রামবাসীদের।
এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, তাইজুদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বোনেদের জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল বেশ কয়েক দিন ধরে। সেই বিবাদের জেরেই সম্ভবত বোমা বানানোর সরঞ্জাম মজুত করা হয় ওই ব্যক্তির বাড়িতে। এলাকার লোকজন প্রশ্ন তুলেছেন, শুক্রবার রাতে বোমা বানানোর সময় তা ফেটেই এই দুর্ঘটনা কিনা তা নিয়ে। তাঁরা এই ঘটনার পর থেকে রীতিমতো আতঙ্কে।
বিস্ফোরণের পরে এলাকায় বসেছে পুলিশ পিকেট। শুরু হয়েছে টহলদারি। শনিবার ঘটনাস্থলে যান জঙ্গিপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বা এসডিপিও এবং জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাঁরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।
এলাকার লোকজন জমি বিবাদকে দায়ী করলেও কী কারণে বোমা বাঁধা হচ্ছিল এবং কেন বিস্ফোরণ ঘটে তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিপুরের এসডিপিও প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মৃত টিটু শেখ সামশেরগঞ্জের কামালপুর এবং মহারুল শেখ ফরাক্কার বাসিন্দা। বোমা বাঁধার কাজে এরা যুক্ত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনকে আটক করেছে তারা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।