লালগোলায় পড়শি যুবকের এলোপাথাড়ি কোপ গৃহবধূকে, গুণিন যোগের আশঙ্কা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবেশীর কুনজরে মৃত্যু হয়েছে বাবার, এই অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের লালগোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন বলরামপুর এলাকায় মেসবাহুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর প্রতিবেশী তাসকু
শেষ আপডেট: 19 February 2020 06:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবেশীর কুনজরে মৃত্যু হয়েছে বাবার, এই অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের লালগোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন বলরামপুর এলাকায় মেসবাহুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর প্রতিবেশী তাসকুড়া বিবিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়েছেন। বছর পঁয়ত্রিশের তাসকুড়া বিবির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন বলরাম এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন মাস ছয়েক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জাকির হোসেনের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের লোকজন অপবাদ দেন যে প্রতিবেশী বছর পঁয়ত্রিশের গৃহবধূ তাসকুড়া বিবি বান মেরে ও তুকতাক করে জাকির হোসেনকে মেরে দিয়েছেন।
এমন অপবাদ দিয়ে গত ছ’মাসে বেশ কয়েক বার তাসকুড়া বিবির উপরে চড়াও হয়েছেন মৃত জাকিরের পরিবার।
মঙ্গলবার তাসকুড়া বিবি একাই বসে বিড়ি বাঁধছিলেন। অভিযোগ, তখন সুযোগ বুঝে তাঁর উপরে চড়াও হন মেসবাহুল। হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন।

তাসকুড়ার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা, হাতেনাতে ধরে ফেলেন মেসবাহুলকে। পাশেই বাড়ি হওয়ায় ছুটে এসেছিলেন লালগোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তসিকুল ইসলাম বাপি। গুরুতর আহত ওই মহিলাকে উদ্ধার করে তাঁরা কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আহত মহিলার অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা এখনও সঙ্কট মুক্ত নন।
গ্রামের উত্তেজিত জনতা মেসবাহুলকে ধরে করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তসিকুল ইসলাম বলেন, “জনতা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, অভিযুক্তকে কোনও রকম ভাবে হেনস্থা করা হয়নি। তবে যে ভাবে ওই গৃহবধূকে আঘাত করা হয়েছে তা কোনও ভাবেই মানা যায় না।” যাতে এই ধরনের ঘটনার কোনও রকম পুনরাবৃত্তি না হয় সে ব্যাপারে লোকের সচেতনতা বাড়ানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
লালগোলা থানার ওসি সৌম্য দে বলেন, “অভিযুক্তকে আমরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। পরে আক্রান্তের বাড়ির লোকের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।” পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করছে।
কোনও গুণিনের পরামর্শে অভিযুক্ত ব্যক্তি এই কাজ করেছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।