দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে সিএএ-বিরোধী মিছিলে নির্বিচারে গুলিতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হল অন্যতম মূল অভিযুক্ত মহিরউদ্দিন মণ্ডল। সে জলঙ্গি উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি তাহেরউদ্দিন মণ্ডলের ভাই।
জলঙ্গি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের ইসলামপুর থানার বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। কড়া নিরাপত্তায় মহিরউদ্দিন মণ্ডলকে শুক্রবার বহরমপুর অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জলঙ্গি থানার পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের ইসলামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাজির হয়। তখন সেখান থেকে মহিরউদ্দিন মণ্ডল অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার আগেই তাকে গ্রেফতার করে ফেলে পুলিশ। এখনও ঘটনার মূল অভিযুক্ত তহিরউদ্দিন মণ্ডল অধরাই রয়েছে। মূল অভিযুক্ত অধরা ধাকায় এলাকায় সাধারণ মানুষ এখনও ক্ষুব্ধ।
মাসখানেক আগে সিএএ বিরোধী একটি নাগরিক মঞ্চের ডাকা বনধে সাড়া দিয়ে মিছিল হয় জলঙ্গির সাহেবনগর এলাকায়। সেই মিছিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ছিলেন। গাড়ি করে এসে ওই মিছিলে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই গুলি চালানো হলেও অভিযুক্তরা শাসকদলের নেতা হওয়ায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি, তাদের আটকানোর চেষ্টাও করেনি। তৃণমূল ব্লক সভাপতি তাহেরউদ্দিন মণ্ডল সেদিন দুষ্কৃতীদের নেতৃত্ব দেন ও নিজেও গুলি চালান বলে অভিযোগ। সেদিনের গুলি চালানোয় নিহত হন দুই নিরীহ গ্রামবাসী। এরপরে রাস্তা আটকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করতে থাকেন গ্রামবাসীরা।
এই ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত তহিরউদ্দিন-সহ অভিযুক্তরা ফেরার ছিল। এই ঘটনায় দায়ের করা দু’টি পৃথক অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে সাহেবনগর পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী মিলটন শেখ, সে মূল অভিযুক্ত তথা জলঙ্গি ব্লক তৃণমূল সভাপতি তহিরউদ্দিনের ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত এবং হায়দার মোল্লা নামে ঘোড়ামারা গ্রামের আর এক দুষ্কৃতী।
সাহেবনগর পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী মিলটন শেখের বিরুদ্ধে ছেলেকে খুনের অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মৃত সালাউদ্দিনের বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেফতার করা হয় মিলটনকে। মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার অজিত সিং যাদব বলেন, “পুরো ঘটনা নিয়ে এই মুহূর্তে তদন্ত চলছে, এক এক করে অভিযুক্ত সকলেই গ্রেফতার হবে।”
জলঙ্গির গুলি চালানোর ঘটনার পরে শোনা যায় যে সাহেবনগরে মিছিলটি ছোট হলেও তার নেপথ্যে ছিল মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস চাইছিল না যে এই মিছিল হোক। এরাজ্যে নাগরিক আইন (সিএএ) বিরোধী সব মিছিলের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস থাকবে, এটাই তারা চাইছিল। তার জেরেই এই হিংসা বলে অনেকে মনে করছেন।