দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁচরাপাড়ার কাউন্সিলরদের যে ধরে রাখা যাবে না, সেই দেওয়াল লিখন আগেই হয়তো পড়ে ফেলেছিলেন তিনি। সম্ভবত সেই কারণেই মুকুল রায় শুক্রবার থেকে বলতে শুরু করেছিলেন, “আমি অর্জুনকে (পড়ুন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহ) বলেছি কাউকে আটকানোর দরকার নেই। যে পারে যাক। শুভ্রাংশুকেও (পুত্র, বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়) তাই বলেছি”।
প্রশ্ন হল, বিজেপি-র ছাতার নীচে আসা কাউন্সিলরদের মুকুলবাবু যদি আটকাতে না পারেন, তাঁদের সেই তৃণমূলেই ফিরতে দেন, তা হলে কেনই বা তাঁদের এনেছিলেন বিজেপি-তে? এ-ও প্রশ্ন উঠছে, ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এই অবস্থান? আঙুর ফল টক?
দু’দিন আগেই মুকুলবাবু বলেছিলেন, কাঁচরাপাড়া নিয়ে যে সব কথা বলা হচ্ছে তা গুজব। কাঁচরাপাড়া পুরসভায় বিজেপি-র শক্তি অটুট রয়েছে। কিন্তু শনিবার এ সব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুকুলবাবু বলেন, “টক ঝালের প্রশ্ন নেই। রাজনীতিতে বহু স্তর। কী ভাবে কাউন্সিলরদের ফেরানোর হচ্ছে তাও দেখতে হবে। ওই সব কাউন্সিলরের সঙ্গে ভোট নেই। মানুষও নেই।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুলবাবু প্রকাশ্যে যাই বলুন, হালিশহর, হরিণঘাটা আর তার পর কাঁচরাপাড়ায় বিজেপি ছেড়ে একাংশ কাউন্সিলরের ‘ঘর ওয়াপসি’ তথা তৃণমূল ওয়াপসি যে গেরুয়া শিবিরে কোথাও একটা অস্বস্তি তৈরি করেছে সংশয় নেই। মুকুলবাবুর রাজনৈতিক মর্যাদার জন্য তা ইতিবাচক নয়। কেন না কাঁচরাপাড়া তাঁর ঘরের মাঠ।
তবে মুকুল-ঘনিষ্ঠদের মতে, কাঁচরাপাড়া-হালিশহর-হরিণঘাটার ঘটনায় দাদারও হয়তো একটা শিক্ষা হয়েছে। লোকসভা ভোটের পর পরই এই পুরসভাগুলো থেকে তৃণমূলের ডজন ডজন কাউন্সিলর ভাঙিয়ে বিজেপি-তে নিয়ে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। তখনও তিনি জানতেন, এঁদের অনেকেরই রাজনৈতিক যোগ্যতা নেই। গায়ে বড় দলের জার্সি না থাকলে এলাকায় ব্যক্তিগত কোনও প্রভাব নেই। কিন্তু তার পরেও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে তিনি তাঁদের বিজেপি-তে সামিল করিয়েছিলেন। বাংলার মানুষের কাছে এই বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন, তৃণমূল এখন ডুবন্ত জাহাজ। ফলে তা থেকে এখন পালাতে শুরু করেছেন দলের নেতা কর্মীরা। দ্বিতীয়ত, কাউন্সিলরদের ভাঙিয়ে আনলেও পুরবোর্ড সাজানো গোছানোর চেষ্টা হয়নি। বরং তা না করেই অন্য জায়গায় ভাঙন ধরানোর চেষ্টায় নেমে পড়েছিলেন তিনি। তাতে যা হওয়ার তাই হয়েছে। কারণ, যে কাউন্সিলররা তৃণমূল ছেড়ে দুম করে বিজেপি-তে চলে এসেছিলেন তাঁদের অনেকেই রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল, অল্পে লুব্ধ হয়ে যান বা ভয় পেয়ে যান। ফলে যে ভাবে বিজেপি-তে এসেছিলেন সে ভাবে তৃণমূলে ফিরে গেলেন। সেই কারণেই এখন আর তাঁদের আটকানোরও চেষ্টা করছেন না মুকুল রায়।
এতটা ব্যাখ্যায় না গেলেও মুকুলবাবু শনিবার বলেন, “লোকসভা ভোটে কাঁচরাপাড়ায় দশ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিল বিজেপি। তখনও এই কাউন্সিলররা তৃণমূলেই ছিল। সুতরাং ওঁদের সঙ্গে ভোট তথা মানুষ যে নেই তা পরিষ্কার। তাই কাউকে আর আটকাচ্ছি না”।
প্রশ্ন উঠছে, ওঁরা ফিরে যাওয়ার পর বুঝলেন ভোট এবং মানুষ ওঁদের সঙ্গে নেই!