দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেল প্রতারণা মামলায় আদালতে ফের স্বস্তিতে বিজেপি নেতা মুকুল রায়। মঙ্গলবার ছিল কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি। বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি ও বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন জানিয়েছে, আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুকুল রায়কে গ্রেফতার করা যাবে না। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৩ ডিসেম্বর।
সরকারের তরফে এদিন আদালতে বলা হয়, ওই মামলার তদন্তের জন্য একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছে। একটুই সময় দেওয়া হোক। আদালত সরকারের এই আবেদন মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে আদালত জানায়, সমস্ত নথি-সহ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। এই সময়ে গ্রেফতার করা যাবে না।
রেলের কমিটিতে জায়গা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দফায় দফায় মোট ৪০ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছেন বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বাবান ঘোষ। গত ২১ অগস্ট বেহালার সড়শুনা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ‘প্রতারিত’ ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, মুকুল রায়ের নাম করে এসেই দফায় দফায় টাকা তুলেছেন বাবান।
ওই ব্যবসায়ী পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, বাবান এসে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, এখন বিজেপির সরকার রয়েছে দিল্লিতে। মুকুল রায় ছিলেন রেলমন্ত্রী। তিনিও এখন বিজেপি-তে। ফলে রেলের অনেক কিছু এখনও মুকুলবাবু নিয়ন্ত্রণ করেন। বিশ্বাস করেই তিনি বাবানকে টাকা দিয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, মুকুল রায়কে তদন্তের জন্য যদি ডাকা হয়, তাহলে তাঁকে যেতে হবে। দু’বার জেরায় হাজিরা দেন মুকুলবাবু।
যদিও মুকুল শিবিরের বক্তব্য, দাদাকে নাজেহাল করতেই এই মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং সবটাই হয়েছে তৃণমূলের মদতে। এর আগে রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা মামলায় মুকুল রায়ের শ্যালককে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। যদিও ওই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রেহাই দিয়েছে মুকুলবাবুকে।