দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইল নিয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল ভবনের গেটে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে দলের সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তপসিয়ায় দলের সদর কার্যালয়ে পৌঁছন কল্যাণবাবু। কিন্তু মূল গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বলেন, মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবে না। এরপরই শুরু হয়ে যায় বচসা।
সেই মুহূর্তেই মোবাইলে কথা বলতে বলতে গেট পেরিয়ে তৃণমূল ভবনে ঢুকতে থাকেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই দৃশ্য যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। প্রবল চিৎকার শুরু করে দেন আইনজীবী সাংসদ। বলতে থাকেন, “এটা কী হচ্ছে? এক এক জনের জন্য একএক রকম নিয়ম নাকি? ডোন্ট ডু দিস!”
এমনিতে তৃণমূল ভবনে এই ধরনের বৈঠক থাকলে মোবাইল নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকেই। দলের সর্বোচ্চ স্তরের গুটি কয়েক নেতামন্ত্রী ছাড়া, বাকি প্রায় সকলকেই ফোন বাইরে রেখে ঢুকতে হয়। অনেকের মতে, কল্যাণবাবুরও ব্যাপারটা অজানা নয়। কিন্তু তাও এদিন তিনি চিৎকার করে ফেলেন চোখের সামনে অন্য নেতাকে ফোনে কথা বলতে বলতে ঢুকতে দেখে।
পুলিশ ও তৃণমূলের বেশ কিছু কাউন্সিলর এদিন ভবনের মূল গেটে মোবাইল না নিয়ে ঢোকার ব্যাপারটি দেখছিলেন। কল্যাণ চেঁচামেচি শুরু করতেই তৃণমূলনেতারা সরে পড়েন সেখান থেকে। শ্রীরামপুরের সাংসদকে পুলিশ জানায়, তাঁদের কিছুই করার নেই। যা নির্দেশ আছে, তাঁরা সেটাই পালন করছেন। পরে অবশ্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর হাতে মোবাইল রেখেই ভিতরে ঢোকেন কল্যাণ।
এই ঘটনার খানিক আগেই একসঙ্গে তৃণমূল ভবনে ঢুকছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পাশেই ছিলেন পাণিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। নিরাপত্তারক্ষীরা শোভনদেববাবুকে বলেন, দাদা ফোনটা রেখে ভিতরে যেতে হবে। শোভনদেববাবুর গায়ে ছিল একটি জহর কোট। তিনি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও তৃণমূলকর্মীদের হাসতে হাসতে বলেন, “এই জহর কোটটাও রেখে যেতে হবে নাকি!”