দিব্যেন্দু ভৌমিক, ছাগুলিয়া (অসম গেট )
কার্যত রাস্তাই এখন ওঁদের ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও উত্তরপ্রদেশ-বিহার সীমানা আবার কখনও বাংলা-বিহার সীমানা। এখন ওঁরা রয়েছেন বাংলা-অসম সীমানার ছাগুলিয়ায়। নাছিমা বিবি, ভানু লাল, লীনা খাতুন, উঁনি পারভিন – এঁদের কোলে সদ্যোজাত শিশু। কারও বয়স তিন দিন, কারও বয়স পাঁচ দিন আবার কারও ছ’দিন। রুকসানা অন্তঃস্বত্ত্বা।
এঁরা কেউ বিহারের আবার কেউ উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাঁটা থেকে কাজ হারিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছেন। সব মিলিয়ে এঁদের সংখ্যা এক হাজারের বেশি। দীর্ঘ পথ কখনও হেঁটে কখনও লরিতে – এভাবেই পাড়ি দিয়েছেন। রবিবার রাতে তাঁরা এসে পৌঁছন অসম-বাংলা সীমানার চাগুলিয়ার অসম গেটে। জায়গাটা অসমে ধুবুরি জেলার মধ্যে পড়ে।
কেউ এসেছেন রবিবার রাতে। কেউ তারও এক দিন বা দু’দিন আগে। এঁদের থার্মাল চেকিং হয়েছে। ব্যস ওই পর্যন্তই। তখন থেকে বেশির ভাগের আশ্রয় খোলা আকাশের নীচে। পানীয় জল ও খাবার পাচ্ছেন না। সদ্যোজাতরা গরমে ভীষণ রকম ক্লান্ত। তাঁদের মায়েদের অবস্থাও তাই।
অসমের ভিতরে ঢুকেছেন অনেকেই। তবে কবে তাঁরা বাড়ি পৌঁছতে পারবেন সে কথা জানেন না। সোমবার অসমের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা বলেন, “আজ সকালে ছশো জনকে চেক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে দশটি কাউন্টারে থার্মাল চেকিং হচ্ছে। দিনে আড়াইশো জনের চেকিং হচ্ছে। সংখ্যাটা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অসমের দমকল বাহিনী ঘনঘন স্যানিটাইজেশনের কাজ করছে।”
গাদাগাদি করে হাজার দুয়েক মানুষ অসম সীমানায় পড়ে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সীমানা লাগোয়া বক্সিরহাট এলাকায়। চিন্তায় সীমানা লাগোয়া জোরাই মোড়ের বিবেক দাস, জমসের আলিরা। তাই অসম পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বাংলার পুলিশের মধ্যেও। বক্সিরহাট থানার মেজবাবু অ্যান্টনি হোরো বলেন, “অসম সরকারের এই ঢিলেমি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব কী ভাবে মানবেন এঁরা? এঁদের বিপদ আশঙ্কা করছি।”
সোমবার বিকেলে টেলিফোনে কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাডিয়ান বলেন, “আমি ঘন ঘন অসম প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আজও চার বার ধুবরির জেলাশাসকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওখানকার সমস্যা খুবই তাড়াতাড়ি মিটে যাবে বলে আশা করছি।” উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে আনার ব্যবস্থা করছেন। বিজেপি শাসিত অসম যদি এভাবে তাঁদের রাজ্যে প্রবেশে গড়িমসি করে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই।”