রফিকুল জামাদার
ডিসেম্বরে দু’দিনের জন্য বাংলায় সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১৯ তারিখ মেদিনীপুর কলেজ মাঠে তাঁর সভায় বিধায়ক, নেতা, সাংসদ সহ ৪২ জনকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাতে উত্তর থেকে দক্ষিণ মোটামুটি ‘প্রায়’ সব জেলারই কেউ না কেউ ছিলেন।
এ পর্যন্ত কোনও রহস্য নেই। কিন্তু বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, দক্ষিণবঙ্গের দুটি জেলা থেকে সেদিন কেউ বিজেপিতে যোগ দেননি, নজরে পড়েছে কি? কোন দুই জেলা? এক, হাওড়া এবং দুই নদিয়া।
অনিবার্য কারণে দিনক্ষণ বদল না হলে জানুয়ারি মাসের ১৯ ও ২০ তারিখ ফের রাজ্য সফরে আসার কথা অমিত শাহর। বিজেপি সূত্রের দাবি, ওই সফরে মূল ফোকাস থাকতে পারে ওই দুই জেলাতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার দুই তরুণ মন্ত্রী, এক জন প্রাক্তন মেয়র, এক জন জেলা সভাপতি, পুরসভার একাধিক প্রশাসক বা সদ্য প্রাক্তন প্রশাসক সেদিন যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। সেই সঙ্গে এক সাংসদের নামও রয়েছে সম্ভাব্যদের তালিকায়। তবে ওই সাংসদ হাওড়া ও নদিয়া জেলার নয় বলেই গেরুয়া শিবিরের দাবি।
বিজেপি সূত্রের দাবি, অনেকেরই ধারণা ছিল তৃণমূলের কোনও সাংসদ এখনই বিজেপিতে যোগ দিতে চাইবেন না। পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সেই মিথ ভেঙে গিয়েছে। একুশের নির্বাচন আসতে আসতে শাসক দলের আরও অন্তত তিন জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।
প্রশ্ন উঠতে পারেন, এঁদের যখন বিজেপিতে যাওয়ারই কথা তা হলে ডিসেম্বরে যাননি কেন?
বিজেপির এক পর্যবেক্ষকের কথায়, শুভেন্দুর যেমন রাজ্য রাজনীতিতে উচ্চতা রয়েছে। তেমনই আরও কয়েকজনের স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে। তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই চান, তাঁদের ব্যাপারটা পৃথক ভাবে হোক। তা ছাড়া অনেকেরই আগ্রহ অমিত শাহর হাত ধরে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়া।
অমিত শাহর প্রস্তাবিত ওই সফরের আগে অবশ্য বাংলায় আসার কথা বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার। তিনি মকর সংক্রান্তির আগে কলকাতায় আসতে পারেন। তাঁর সফরে অবশ্য যোগদান কর্মসূচির সম্ভাবনা কম। তার একটা কারণ হচ্ছে, সংক্রান্তির আগে এখন মল মাস চলছে। উত্তর ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি একে ‘শ্রাদ্ধ’ পিরিয়ড বলে। এই সময়ে তাঁরা কোনও শুভ কাজ করতে চান না। ফলে যোগদান সংক্রান্ত যা হওয়ার তা শাহি সফরকালেই হবে।