দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় মায়ের সঙ্গে এক যুবকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় ধর্ষিত হতে হল এক ষোলো বছরের নাবালিকাকে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকের হাতে শ্লীলতাহানি হওয়ার পরে শেষ পর্যন্ত ওই নাবালিকাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয় এবং তাতে প্ররোচনা ছিল তাঁর মায়ের। বাবাকে নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই কিশোরী। পুলিশ এই ঘটনায় মা ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানা এলাকার মল্লিকভেড়ি ঘাটপাড়ার বাসিন্দা সত্যানন্দ মণ্ডল কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। সেটাকেই সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে বিশু অধিকারী নামে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তোলেন তাঁর স্ত্রী মিলন। সত্যানন্দের একমাত্র মেয়ের বয়স বছর ষোলো। এই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করেন। পরে গোপনে মা ও তাঁর প্রেমিকের একান্ত মুহূর্তের ছবি মোবাইল ফোনে তুলে রাখেন। তাঁর বাবা এলে সেই ছবি তাঁকে দেখান ওই কিশোরী। তখন ওই যুবককে বাড়িতে আসতে নিষেধ করে দেন সত্যানন্দ।
তিনি কর্মস্থলে ফিরে গেলে তাঁর স্ত্রী মিলন অবশ্য ওই যুবককে ফের ডেকে পাঠান। তখন ওই নাবালিকা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ, এর পরে তাঁর মায়ের প্ররোচনাতে তাঁকে যৌন হেনস্থা করে বিশু। পরে তাঁকে একাধিক বার সে ধর্ষণও করে। অত্যাচারিত ওই নাবালিকা এই ঘটনার কথা তাঁর বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয় অভিযুক্ত।
বেশ কয়েক বার যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হওয়ায় তা সহ্য করতে পারছিলেন না ওই কিশোরী। তাঁর বাবা ফিরলে তাঁর সঙ্গে হাড়োয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাড়োয়া থানার পুলিশ তাঁর মা মিলন মণ্ডল ও মায়ের প্রেমিক বিশু অধিকারীকে গ্রেফতার করে। দুই অভিযুক্তকে সোমবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা চালু করেছে। ইতিমধ্যেই ধৃতদের একপ্রস্থ জেরা করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মায়ের প্ররোচনায় নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার লোকজন। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার লোকজন অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।