দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশনে সরকারি কুপন না পেয়ে মালদেহর মানিকচকে বিক্ষোভ দেখালেন ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকরা। পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে শুক্রবার তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। যদিও পঞ্চায়েতের বক্তব্য, তাদের বদনাম করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তা করা হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের বিক্ষোভের ফলে এদিন উত্তেজনা ছড়ায় মানিকচক গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে। ক্ষিপ্ত শ্রমিকরা এক পঞ্চায়েত সদস্যের অনুগামীকে সামনে পেয়ে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন বলে অভিযোগ। গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে মানিকচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। লাঠি হাতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে মানিকচক থানার পুলিশ।
মালদহের মানিকচক গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি পরিচালিত। প্রধানের পদে রয়েছেন বিউটি মণ্ডল। করোনা আবহে এই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। আগেও এই পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বার আন্দোলনে সরব হয়েছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার তাঁদের আন্দোলন কার্যত চরমে ওঠে। ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের কয়েক জন গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য ভোলানাথ মণ্ডলের এক অনুগামী প্রদীপ প্রামাণিককে পঞ্চায়েত চত্বরে পেয়ে মারধর করতে শুরু করেন। যদিও খুব দ্রুত তাঁরা নিজেরাই সামলে নেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের তরফে এখনও তাঁদের কুপন দেওয়া হচ্ছে না। বারবার তাঁদের হয়রান হতে হচ্ছে। প্রকৃত শ্রমিকদের বদলে পঞ্চায়েতের সদস্যরা নিজেদের অনুগামীদের এই কুপন দিচ্ছে। এই চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের এমন মনোভাবে তাঁরা ক্ষুব্ধ। আবেদন-নিবেদনে কাজ না হওয়ার জন্যই তাঁরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতের কিষানজাতি নামে এক রাজনৈতিক দলের সদস্য আশিস মণ্ডল বলেন, “আমার বুথের অন্তত তিরিশ জন জন পরিযায়ী শ্রমিকের কুপন হারিয়ে গেছে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে। পঞ্চায়েত প্রধানের গাফিলতির কারণে এই ভাবে কুপন হারিয়ে গেছে।” তিনি জানান, কুপন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পরিযায়ী শ্রমিকরা জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সরকারি ভাবে যে খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা তাঁরা তা এখনও পাচ্ছেন না। ফলে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা।
বিউটি মণ্ডল বলেন, “অধিকাংশ সদস্যের কুপন বিতরণ করে দেওয়া হয়ে গেছে। কয়েক জন বিরোধী সদস্য আছেন যাঁরা কুপন দেওয়ার পরে অভিযোগ তোলেন যে তাঁদের কুপন কম এসেছে। তা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁরা বিক্ষোভ-আন্দোলন করছেন। বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের জন্যই এই ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে। বিজেপির বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”