দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন রাজ্যে কাজ করা শ্রমিকদের নিয়ে বিশেষ ট্রেন ফিরল রাজ্যে। দুদিন আগে রওনা হয়ে রাজস্থানের অজমের থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ডানকুনি স্টেশনে এসে পৌঁছয় ওই ট্রেনটি। ট্রেনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজস্থানে কাজ করতে যাওয়া বারোশো শ্রমিক ছিলেন।
লকডাউন শুরু হওয়ার ফলে তাঁরা কাজ হারালেও ঘরে ফিরতে পারছিলেন না সব রাজ্যের সীমানা বন্ধ থাকায়। তাছাড়া ট্রেনও বন্ধ রয়েছে। তাই শ্রমিকদের ফেরাতে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে কোটা থেকে এরাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ফেরানো হয়েছে। রবিবার অজমের থেকে রাজ্যে ফিরেছেন আটকে পড়া ২৯ জন পর্যটক। এবার ফিরলেন একসঙ্গে বারোশো শ্রমিক।
রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত, হুগলির জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও এবং জেলার বেশ কয়েক জন সরকারি আধিকারিক এদিন ডানকুনি স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের বাসে করে নিজেদের জেলায় ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও জানান বড় বাস ও ছোটো গাড়ি মিলিয়ে ষাটটি গাড়িতে করে শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রত্যেক শ্রমিকের থার্মাল স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তবে বাসে তোলা হবে। করোনাভাইরাসের কোনও উপসর্গ না থাকলে তবেই স্বাস্থ্য দফতর থেকে শংসাপত্র দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখানে প্রাথমিক সুযোগ সুবিধার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেডিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। থার্মাল গান দিয়ে থার্মাল স্ক্রিনিং করা হবে। প্রত্যেককে চোদ্দো দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় তাঁরা কী করবেন ও কী করবেন না সে ব্যাপারে নির্দেশিকা দেওয়া হবে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেটও দেওয়া হচ্ছে প্রত্যেককে। খাবার ও জলের বোতল দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোর সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
এদিন অজমের থেকে এরাজ্যে যেসব শ্রমিক ফিরেছেন তাঁদের অধিকাংশেরই বাড়ি হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। অন্য রাজ্যের শ্রমিকরাও রয়েছেন তবে তাঁরা সংখ্যায় কম। প্রত্যেকে নিজের জেলায় পৌঁছানোর পরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় প্রশাসন চাইলে ফের তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং ও অন্য পরীক্ষা করাতে পারে।