
শেষ আপডেট: 7 October 2019 12:06
ইতেহাদ-উলেমা-ই-হিন্দ নামের একটি সংগঠনের সহ-সম্পাদক মুফতি আসাদ কাসমি বলেন, "ইসলাম আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও ভগবানের সামনে পুজো করাকে সমর্থন করে না। নুসরত জাহান দুর্গাপুজোয় অংশগ্রহণ করেছেন যা ইসলাম বিরোধী। উনিও বিয়েও করেছেন মুসলিম নন এমন একজনকে। যদি উনি ইসলামকে সমর্থন নাই করেন তাহলে নিজের নাম বদলে নিচ্ছেন না কেন? বারবার কেন ইসলামকে অপমান করছেন?" এখানেই শেষ নয়। নুসরতের বিরুদ্ধে তোপ দেগে কাসমি আরও বলেন, "ইসলামে এমন কোনও মানুষের প্রয়োজন নেই যিনি ইসলামের নাম ব্যবহার করেন, অথচ ইসলামকেই অস্বীকার করেন, অগ্রাহ্য করেন।"
অভিনেত্রী সাংসদ নুসরতের বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের ফতোয়া জারির ঘটনা নতুন নয়। নিখিল জৈনকে বিয়ের করার পর থেকেই বারবার মৌলবাদীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিয়ের পর শাড়ি, মেহেন্দি, সিঁদুর পরে সংসদে শপথ নিতে গিয়েছিলেন বসিরহাটের সাংসদ। সেই সময়েও বিস্তর জল্পনা হয়েছিল নুসরতের সাজপোশাক নিয়ে। দেওবন্দের মৌলবাদী সংগঠনের তোপের মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ। মুসলিম ধর্মের মেয়ে হয়েও হিন্দু রীতি মেনে সিঁদুর পরার ‘অপরাধ’-এ নুসরতের বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে ওই সংগঠন। নুসরতের সিঁদুর পরার প্রসঙ্গে মৌলবাদী সংগঠনের সদস্য মুফতি আসাদ ওয়াসমি বলেন, “ইসলাম ধর্মে মেয়েদের অমুসলিমদের বিয়ে করার অধিকার নেই। বিয়ের পরে হিন্দু রীতি মেনে নুসরত সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরে ইসলাম ধর্মকে অসম্মান করেছেন।” সেই সঙ্গেই ওয়াসমির দাবি, “নুসরত একজন অভিনেত্রী। আর অভিনেত্রীরা ধর্মকে গুরুত্ব দেন না। তাঁরা যেটা ভালো মনে করেন সেটাই করেন। তাই সংসদে এমন আচরণ দেখা গেছে নুসরতের মধ্যে।”
বিয়ের আগেও বাড়িতে পুজো করতেন নুসরত। আরাধনা করতেন মা দুর্গারও। সেই সময়েও নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। তবে সেসব পাত্তা দেননি নুসরত। বরং বলেন, "এই বাঙ্গালায় জন্মেছি। বড় হয়েছিল। এখানে সব ধর্মের উৎসব পালন করা হয়। আমি মনে করি বাংলা ঐতিহ্য সংস্কৃতি পালন করে কোনও ভুল করছি না।"