দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনব পদ্ধতিতে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্ম বিনিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ (এনরেগা বা চলতি ভা ১০০ দিনের কাজ) শুরু হল তারকেশ্বরের আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। সারা দেশে লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়েছে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে একশো দিনের কাজকে লকডাউনের বাইরে রাখা হয়েছে তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই করতে হবে কাজ। এই কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশে।
অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এনরেগার কাজ চালু করেছে তারকেশ্বরের আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। এতদিন মাটি কাটার কাজ চলত সামাজিক দূরত্ব না মেনেই। তখন তা বজায় রাখার প্রয়োজনও হত না। এদিন একশো দিনের কাজের সময় শুক্রবার দেখা গেল ছয় ফুট দূরত্ব ছাড়া ছাড়া এক একটি করে বাঁশের খুঁটি বসানো হয়েছে। খুঁটির মাথায় লাগানো হয়েছে লোহার গোল রিং। এক একজন করে শ্রমিক ঝুড়ি করে মাটি এনে সেই খুঁটির উপরে রাখছেন। তারপর আর এক জন শ্রমিক দূরত্ব বজায় রেখে সেই ঝুড়ি নিয়ে গিয়ে পরের খুঁটিতে রাখছেন। সব শেষে যে শ্রমিক থাকছেন তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় মাটি ফেলছেন। অর্থাৎ প্রত্যেকেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন। কোনও গা ঘেঁষাঘেঁষি নেই আবার ছোঁয়াছুঁয়িও নেই। এই ভাবেই চলছে পুকুরের মাটি কাটার কাজ। প্রত্যেকে মাস্ক পরে আছেন।
একশো দিনের কাজ এই ভাবে করার ফলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও অনেকটাই কমেছে আবার লোকের রোজগারের রাস্তাও বের করা সম্ভব হয়েছে।
দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনন্দমোহন ঘোষ বলেন, “সরকার একশো দিনের কাজের অনুমতি দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী উভয়েই অনুমতি দিয়েছেন। সেই মতো বিডিও আমাদের জানিয়েছেন। বিডিও এবং পঞ্চায়েতের সদস্যরা বৈঠক করে এই পদ্ধতি বার করেছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। প্রত্যেককে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে মাস্ক পরেই কাজ করছেন।”
আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন দরিদ্র মানুষজন। তাই গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের হাতে অর্থের যোগান দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে যে একশো দিনের কাজ করা যাবে লকডাউনের মধ্যেও।