দ্য ওয়াল ব্যুরো: কম্পন নিয়ে তো কম কথা হয়নি এই ক’দিনে! মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পুরমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, আঙুল তুলেছিলেন জোকা-বিবাদীবাগ মেট্রো প্রোজেক্টের ভাইব্রেশনের দিকে। তারপর রেল, মেট্রোরেল, নবান্নর চাপানউতোরের মাঝেই উদ্ধার হয়েছে দেহ। কিন্তু মাঝেরহাটের কম্পন যে ছড়িয়ে পড়েছে জেলায় জেলায় তা স্পষ্ট হয়ে গেল মঙ্গলবার।
সেতুভঙ্গ রুখতে তৎপর রাজ্য সরকার সমস্ত জেলার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠক করল এ দিন। এবং সেই বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, রাজ্যের সমস্ত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাতে হবে। সেই কাজে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি সেতুর বল বিয়ারিং, গার্ডার, জয়েন্ট কী অবস্থায় রয়েছে তা ধারাবাহিকভাবে নজরে রাখতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয় পূর্ত দফতরের জেলা আধিকারিকদের। ২০ চাকার লরি চলাচলে পুলিশি নির্দেশিকা কঠোর ভাবে পালন করার কথাও সমঝে দিয়েছেন পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
প্রশাসনিক মহলের মতে, সেতুভঙ্গ নিয়ে একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপালেও পূর্ব রেলের চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বিপাকে পড়ে যায় রাজ্য সরকার। যে চিঠিতে রেল জানিয়েছিল, সিগন্যালের কাজ করতে গিয়ে তাদের আধিকারিকরা দেখেছেন মাঝেরহাট ব্রিজের অবস্থা ভাল নয়। বিমগুলির অবস্থাও কার্যত ঝরঝরে হয়ে গেছিল। সেইসঙ্গে টেন্ডার ডেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করানোর বদলে সরকারের শামুক গতি আরও প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। দ্রুততার সঙ্গে শীর্ষস্তরে প্রশাসনিক বৈঠক করে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, “কুড়িটি ব্রিজের লাইফ এক্সপায়ার করেছে।” সব মিলিয়ে মাঝেরহাটের কম্পনে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। আর নবান্নর চোখ যে শুধু শহর কলকাতায় নয়, তা জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকেই পরিষ্কার হয়ে গেল এ দিন।