দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে মুখ খুললেন নারদ স্টিং অপারেটর ম্যাথু স্যামুয়েল। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঠিক পথে এগোচ্ছে তদন্ত। এটা সাংবাদিকতার জয়।
গত বৃহস্পতিবার নারদ স্টিং অপারেশন তদন্তে প্রথম গ্রেফতারটা সেরে ফেলেছে সিবিআই। অবিভক্ত বর্ধমানের প্রাক্তন পুলিশ সুপার এসএমএইচ মির্জাকে হেফাজতে নিয়েছে তদন্ত এজেন্সি। তারপর থেকেই যেন নতুন নতুন মোড় নিচ্ছে তদন্ত। মুকুল রায়কে তলব, মির্জার মুখোমুখি বসিয়ে প্রাক্তন রেলমন্ত্রীকে জেরা করার পর রবিবার মির্জাকে নিয়ে সিবিআই টিম পৌঁছে যায় মুকুলবাবুর এলগিন রোডের ফ্ল্যাটে। কী ভাবে টাকা ‘লেনদেন’ হয়েছিল তার পুনর্নির্মাণ করানো হয় মির্জাকে দিয়ে। তারপর ম্যাথু মুখ খুললেন সংবাদমাধ্যমে।
দক্ষিণী এই সাংবাদিক বলেন, “আমাকে ২৫ বার ডেকেছে ইডি এবং সিবিআই। দিল্লির অফিস, কলকাতার অফিস—যেখানে যেতে বলেছে, সেখানে গিয়েছি। টাকা গিয়েছে। সময় গিয়েছে। আমাকে তদন্তকারীরা বলেছিলেন, এর মধ্যে যেহেতু বহু প্রভাবশালী রাজনীতিকরা জড়িত, তাই মেপে পা ফেলতে হবে। তবে তদন্ত ঠিক পথে যাবে। আজ মনে হচ্ছে সত্যিই তদন্ত ঠিক পথে এগোচ্ছে।”
ম্যাথু আরও বলেন, “একটা সময় বলা হয়েছিল, এই ফুটেজ নাকি জাল। ভুয়ো। ডক্টরড ভিডিও। আমি তদন্ত এজেন্সিকে বলেছিলাম, আপনাদের যেখানে মনে হয়, সেখান থেকে ফরেনসিক পরীক্ষা করাতে পারেন। এটা সাংবাদিকতার কাজ হিসেবেই করা হয়েছে। যে পথে গোটা প্রক্রিয়া এগোচ্ছে তাতে বলা-ই যায়, ভারতবর্ষের গণতন্ত্রে এটা সাংবাদিকতার জয়।”
২০১৬-র বিধানসভার আগেই এই ফুটেজ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আগে জানলে এদের টিকিট দিতাম না।” তদন্ত ভার নেয় ইডি ও সিবিআই। তারপর থেকে তিন বছরের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। মাঝে এই তদন্ত নিয়ে তেমন নড়াচড়াও দেখা যায়নি। কিন্তু গত দু’মাস ধরেই নারদ নিয়ে তৎপর সিবিআই। গত কয়েকদিনে তা ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছেছে।