দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারদ কাণ্ডে সিবিআই-এর ডাকে হাজিরা দিতে নিজাম প্যালেসে এলেন সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েল। সোমবার বেলা দুটো নাগাদ তিনি নিজাম প্যালেসে পৌঁছন। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির কর্তারা তাঁকে ১২টার সময়ে হাজির হতে বলেছিলেন। প্রায় দু’ঘণ্টা পর কলকাতায় পৌঁছে নারদ স্টিং অপারেশনের মূল মাথা ম্যাথু বলেন, “ফ্লাইট দেরি করায় আসতে দেরি হল।”
জেরায় ঢোকার আগে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তদন্ত কি ঢিমেতালে চলছে? জবাবে ম্যাথু বলেন, “দ্রুত এই তদন্তের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।” তাঁর কথায়, “আমায় কেন সিবিআই আধিকারিকরা ডেকেছেন আমি জানি না। গিয়ে কথা বলার পর বুঝতে পারব। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া উচিত। তারপর তো শুনানি শুরু হবে।”
বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়েও এ দিন মন্তব্য করেন ম্যাথু। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি আপনার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত? জবাবে দক্ষিণ ভারতের এই সাংবাদিক বলেন, “বাংলায় প্রতিদিন বোমা-গুলি চলছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। আপনারাতেই তো লিখছেন দেখাচ্ছেন।”
তৃণমূল অভিযোগ করেছিল, যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে, সেটি কপি ফুটেজ। ম্যাথু বলেন, “ফুটেজ যে কপি সে তো আমি ১৮ বার জেরায় বলেছি। একটা ড্রাইভ থেকে আরএকটা ড্রাইভে কপি।” বোঝাতে চান, শাসক দল কপি বলে যে জাল ফুটেজের দাবি করছে, তা ভিত্তিহীন।
নারদ কাণ্ডের তদন্তে নতুন করে তলব করা শুরু করেছে সিবিআই। এতদিন পর্যন্ত ইডি তদন্ত করছিল। কিন্তু সিবিআই-ও এই তদন্তে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় চিটফান্ড দুর্নীতির তদন্তকে এক জায়গায় এনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের উৎসে পৌঁছেতে চাইছে সিবিআই। সেই সূত্রেই নারদ কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে চিকুর থেকে দস্তাবেজ চেয়ে পাঠিয়েছিল সিবিআই। তলব করেছিল রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেকেও।