দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনে থেমে নেই জীবনের প্রবাহ। বৈশাখ পড়তেই শুভ দিনে বিয়ে হয়ে গেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর শহরের তালবাগিচা এলাকার সৌরভ কর্মকারের সঙ্গে ঝাড়গ্রামের স্বাতী পাত্রর। বিয়ের দিন আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। লকডাউন শুরু হতে তাঁদের আশা ছিল পয়লা বৈশাখে তা উঠে গেলে বিয়ে হবে অনুষ্ঠান করেই। করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে বৈশাখের মাঝামাঝি পর্যন্ত করা হয়, ইংরেজি হিসাবে ৩ মে। তখনই তৎপর হয়ে ওঠেন দু’পক্ষ। অনুমতি নেওয়া হয় প্রশাসনের।
শুভ অনুষ্ঠানে বাধা হয়নি লাল ফিতের ফাঁস। দ্রুত অনুমতি দিয়ে দেয় প্রশাসন। বরপক্ষের গুটিকয় লোক যান কন্যাপক্ষের বাড়িতে। সেখানে বাড়ির মন্দিরে কুলদেবতাকে সাক্ষী রেখেই তাঁরা গাঁটছড়া বাঁধেন। বিয়ের নিয়মমাফিক মন্ত্রোচ্চারণ হয়, সাতপাকে বাঁধাও পড়েন। শুভদৃষ্টি হল বটে তবে কেউ কারোর মুখ দেখতে পেলেন না, দু’জনেরই মুখে ছিল করোনার মাস্ক। যাঁরা পিঁড়ি ধরেছিলেন তাঁদের মুখ ঢাকা ছিল মাস্কে। তাই বাদ রয়ে গেল উলুধ্বনি।
অতিথি আপ্যায়ন করা সম্ভব হয়নি দুটি কারণে – প্রথমত সাত জনের বেশি মানুষ একত্র হতে পারবেন না, দ্বিতীয়ত কারও আসাও সম্ভব নয় লকডাউন ভেঙে। তাই অতিথি আপ্যায়নের টাকায় এলাকার দুঃস্থদের দু’দিন খাওয়াতে চান নবদম্পতি। একদিন বিয়ের খাওয়া ও আর এক দিন বৌভাতের। একটি সংগঠনের সঙ্গে এব্যাপারে তাঁরা কথাও বলেছেন। লকডাউনের ফলে এখন অনেকেরই খাবার পেতে সমস্যা হচ্ছে, তাই এই উদ্যোগ।
অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা হাজির থেকে আশীর্বাদ করেছেন নবদম্পতিকে।