দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ ভর সন্ধ্যায় টিটাগড় থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্ব খুন হয়েছেন বিজেপির ডাকসাইটে নেতা মণীশ শুক্ল। এই ঘটনার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের উপর খুনের দায় চাপিয়েছে বিজেপি। সোমবার সকাল থেকে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় শুরু হয়েছে বনধ। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেট। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন।
সোমবার সকালে থেকেই ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশবাহিনী। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যথেষ্ট পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে মণীশ শুক্লকে। যে দুটি বাইকে করে দুষ্কৃতীরা এসেছিল সেই বাইকদুটি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুটি বাইকে করে চার থেকে পাঁচজন দুষ্কৃতী এসেছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ভাড়াটে খুনি দিয়েই এই কাজ করানো হয়েছে।
এই তদন্তে পুলিশের অন্যতম অস্ত্র সিসিটিভি ফুটেজ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই তবে কোন দিক দিয়ে দুষ্কৃতীরা এসেছিল ও কোনদিকে তারা চলে গিয়েছে সেটা বোঝা যাবে। এমনিতেই বিটি রোডের উপর অনেকগুলি সিসিটিভি রয়েছে। সেগুলির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছে থাকা অনেকগুলি সিসিটিভি উধাও বলে জানা গিয়েছে। যেখানে মণীশকে খুন করা হয়েছে তার সবথেকে কাছে একটি ওষুধের দোকানের মাথায় গতকাল রাত পর্যন্তও একটি সিসিটিভি ছিল বলে অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের। কিন্তু আজ সকাল থেকেই নাকি সেটি দেখা যাচ্ছে না। ওই এলাকায় আরও কয়েকটি সিসিটিভিও উধাও বলে অভিযোগ বিজেপির।
জানা গিয়েছে, মণীশ শুক্লর দু’জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তারা দু’জনেই ছুটি নিয়েছিল। এই খবর দুষ্কৃতীদের কাছে ছিল বলেই অভিযোগ বিজেপির। এভাবে দেহরক্ষীদের একসঙ্গে ছুটি নেওয়া ও ওই এলাকার একাধিক সিসিটিভি উধাও হয়ে যাওয়ার পিছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছে তারা।
সূত্রের খবর, যে দোকানের উপর থেকে সিসিটিভি খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই দোকানের মালিক জানিয়েছেন তাঁর সিসিটিভি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই খুলে নিয়েছেন তিনি। ওই এলাকার আরও কিছু সিসিটিভি বিকল হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। সব মিলিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, দুষ্কৃতীরা ব্যারাকপুরের দিক থেকে এসে ডানলপের দিকে পালিয়ে গেছে। বিটি রোডের উপর যে ট্রাফিক পুলিশের সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে সেখান থেকে বাইক দুটিকে চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।